স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

আখাউড়ায় বিদ্যালয়ের সামনে ভাঙা হচ্ছে ইট

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩, ০৬:১৩

আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য আখাউড়ায় রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল জায়গা জুড়ে ইট ভেঙে সুড়কি করা হচ্ছে। বছর খানেক আগে স্কুলের সামনের পুকুরটি ভরাট করে সেখানে ইট ভাঙার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইট ভাঙা হয়। এসব ইটের কণা, ধুলাবালি বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করছে। দূষিত বাতাস নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। ধুলাবালি জমছে শ্রেণিকক্ষের চেয়ার টেবিলে। ছাত্রছাত্রীদের কাপড়-চোপড় ময়লা হচ্ছে। এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পড়ালেখা করছে বিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ছাত্রছাত্রী। বিদ্যালয়ের সামনে ইট ভাঙা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে রেলওয়ে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পৌরশহরের রেলওয়ে কুমারপাড়া এলাকায় বিদ্যালয় মাঠের সামনে খোলা জায়গায় মেশিন দিয়ে ইট ভাঙার কাজ চলছে। শ্রমিকরা ইট ভেঙে সুড়কি করে স্তূপ আকারে রাখছে। ইট ভাঙার সময় ভাঙা ইটের কণা, ধুলাবালি বাতাসে উড়ছে। পাশের রাস্তা দিয়ে পথচারীসহ ছাত্রছাত্রীরা হাত দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে যাতায়াত করছে। বিদ্যালয়ের মাঠে এবং বারান্দায় ধুলাবালি জমে আছে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, ধুলাবালির কারণে ছাত্রছাত্রীদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। মেয়েদের বমি বমি ভাব হয়। তাদের মাথা ব্যথা হয়। ক্লাস রুমে বসে থাকা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। বিষয়টি ঠিকাদারের লোকজনকে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি ইট ভাঙা বন্ধ করার দাবি জানান।

জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খান বলেন, ধূলিকণা বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ হচ্ছে। নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা এসব দূষিত বাতাস গ্রহণ করছে। এতে ফুসফুস জনিত প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ হতে পারে। অনেকের ধুলাবালিতে এলার্জি থাকে। তাদের হাঁচি-কাশি হতে পারে।

আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েল গেজ ডাবল রেল লাইন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধার হওয়ার বিষয়টি আমি এখন জানলাম। আমি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।  

ইত্তেফাক/এমএএম