ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি করায় বিএনপির আপত্তিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির খোঁজ নিতে গেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ করেছেন আয়োজকদের পক্ষের লোকজন। এতে রুমিন ফারহানার নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ‘আব্দুল কাদির শাহ পাঠাগার’-এর উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের ‘ভাষা সৈনিক অলি আহাদ সম্মাননা স্মারক’ প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা উপস্থিত থাকবেন বলে প্রচার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব। আতাউর আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও রাসেল সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, খোলাপাড়া গ্রামে আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারটি পল্লী গ্রামে শিক্ষা প্রসারে ২০১৮ সাল থেকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসছে। এটি জাতীয় গণগ্রন্থগার অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি বেসরকারি পাঠাগার। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল তিনটার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়েছে।
এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন প্রধান হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এতে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিশেষ অতিথি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি জানতে উপজেলায় আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক আতাউর রহমান এবং সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেল বিপ্লব। এসময় নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন বসে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে দেখে ভেতরে প্রবেশ করেননি।
সেখান থেকে নিচে নেমে উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে নিজেরা কথা বলছিলেন। দুপুরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ তার লোকজন গিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে উপজেলা পরিষদে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে দুই দিকে ফিরিয়ে দেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেপেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তিনি মাননীয় সংসদ সদস্য। তিনি চাইলে অবশ্যই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে।
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান বলেন, আব্দুল কাদির শাহ পাঠাগার’ স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। এ অবস্থায় সরকারি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে তাদের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সংসদে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্য নিয়েও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে গত ১২ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচি থেকে তাকে আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপির ঝাড়ু মিছিল