টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর তীব্র ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটছে দুই পাড়ের মানুষ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা।
স্থানীয়রা জানায়, নদী ভাঙনে ফতেপুর বাজার সংলগ্ন এলজিইডির রাস্তা সস্পূর্ণভাবে ভেঙে নদীতে বিলিন হওয়ায় মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে।
ফতেপুর ফতেপুর এলাকার ভাঙনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বংশাই নদীতে তীব্র ভাঙনের মূল কারণ হচ্ছে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। এর জন্য চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ মিয়াকে দায়ী করেছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, বর্ষা এলে ড্রেজার এবং শুকনো মৌসুমে ভ্যেকু দিয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন অবৈধভাবে মাটি ও বালি উত্তোলন করেন। ১৭ কিলোমিটার এলাকায় চলে তাদের এ অবৈধ বাণিজ্য। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। বংশাই নদীর ফতেপুর, থলপাড়া, হিলড়া আদাবাড়ি, পারদিঘী, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর, ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল, গাড়াইলসহ ১২ গ্রামে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকরে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ মিয়া জানান, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি মাটি কাটা ও বালি উত্তোলনের সঙ্গে কখনো জড়িত নন বলে দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিন বলেন, বংশাই ও লৌহজং নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরন দেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সাজ্জাত হোসেন জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। বেশি ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খান আহেম শুভ বলেন, বংশাই নদীতে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ মন্ত্রী ও সচিবের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, লৌহজং নদীতে ভাঙনের ফলে মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, হাট বাজারসহ ফসলি জমি।
