নাটোরে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিঠুন আলীর ডান হাতের কবজি কর্তন মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তজা আলী বাবলুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নাটোর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রওশন আলম এ নিদেশ দেন।
এ সময় একই মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল এবং সেন্টুর জামিন আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম রমজান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তজা আলী বাবলু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল, এবং সেন্টুসহ চারজন আদালতে হাজিরা দিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। এ সময় আদালত মো. শরিফুল ইসলাম রমজান, সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল এবং সেন্টুর জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। একই মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তজা আলী বাবলুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মোর্তজা আলীসহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম রমজানকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা করেন।
উল্লেখ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু শেখ এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধে গত ১৬ এপ্রিল যুবলীগ নেতা মিঠুনসহ তার সমর্থকরা সাবেক কাউন্সিলর নান্নু শেখকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর থেকেই এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠুনসহ তার সমর্থকরা বলারীপাড়া এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় রাজার পুকুর পাড়ে মুখোশ পড়া অবস্থা ২০/২৫ জন যুবক মিঠুনের ওপর হামলা করে। এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার হাতের কবজি কেটে দেয়। এ সময় মিঠুনকে বাঁচাতে গেলে মিঠুন সমর্থক আরমান আলী, আব্দুলাহ আল রাব্বি ও বকুল মিয়াসহ ৪ জন আহত হয়। এদিন মিঠুন আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার লালমাটিয়ায় সিটি হাসপাতালের নেওয়া হয়।
