ফকিরহাটে অর্গানিক পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে সফল আরব আলী

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩, ২০:০৮

বাগেরহাটের ফকিরহাটে  টাউন নওয়াপাড়া এলাকায় সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের উৎপাদিত কেঁচো সার দিয়ে ড্রাগন ফল চাষ করছেন আরব আলী শেখ। ৫০ শতক জমিতে ৯০টি পিলারে সারিবদ্ধ সবুজ গাছে মনোমুগ্ধকর ফুলের আড়ালে শোভা পাচ্ছে গোলাপী লাল আর সবুজ ফল। 

কৃষক আরব আলী জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৮ হাত দূরত্বে ২০ কেজি জৈব সার দিয়ে প্রতিটি পিলারে ৪টি করে চারা লাগানো হয়। মাঝের ফাঁকা জমিতে চাষ করেন বেগুন, মরিচ, ফুল কপি, বাঁধা কপিসহ বিভিন্ন সবজি। গত দেড় বছরে সমন্বিত প্রযুক্তিতে ড্রাগনের পাশাপাশি সবজি চাষ করে তার লাভ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা। দুই মাস আগে ড্রাগন গাছে ফুল এসেছে। চলতি মাসে প্রায় অর্ধেক গাছে ফুল ফল ধরেছে। ইতিমধ্যে ৩শ টাকা করে ১০ কেজি ফল বিক্রি হয়েছে। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ফলটি বাড়ির আঙ্গিনায় চাষের জন্য শতাধিক ব্যক্তিকে বিনামূল্যে নিজের উৎপাদিত কেচো সার ও চারা দিয়েছেন তিনি।

ছবি: ইত্তেফাক

স্থানীয় চাষি আলম শেখ বলেন, বেতাগার অর্গানিক পদ্ধতি ও আরব আলীর ড্রাগন চাষে সফলতা দেখে পরীক্ষামূলকভাবে আমিও ১০ শতক জমিতে চারা লাগিয়েছি। গাছ ভালো হয়েছে। 

রাজ্জাক, সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ড্রাগন বাগানে উৎপাদিত রাষায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত আরব আলীর সবজির চাহিতা তুলনামূলক বেশি থাকে বাজারে। বিভিন্ন স্থান থেকে এসে তার ড্রাগন ক্ষেত দেখতে চাষাবাদের পরামর্শ নেন চাষিরা।

ফকিরহাটে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাশ বলেন, একই জমিতে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলটির পাশাপাশি অর্গানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করা যায়। প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায়, বাড়ির ছাদে ড্রামে ও মাটিতে অন্যান্য সবজির মতো লাগালে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদ মিটবে। বেকার জনগষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরব আলী হতে পারে একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। 

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অন্য ফলের তুলনায় ড্রাগন চাষ লাভজনক। শুধুমাত্র জৈব সার দিয়ে এটি চাষ করা যায়। চারা গাছ লাগানোর ১৮-২০ মাসের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। ১৫ দিন পর পর ফল তোলা যায়। বছরে প্রায় ৮ মাস গাছে ফল ধরে। ড্রাগন চাষে আরব আলীর সফলতা দেখে অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইত্তেফাক/পিও