কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রতন কুমার সাহাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাত্ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কলেজ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—কলেজটির সাবেক হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কাজী জাহাঙ্গীর আলম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক রতন কুমার সাহা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। এ পদে যোগ দিয়ে তার আগের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবু তাহেরের দায়িত্ব থেকে কলেজের ৪৪টি ব্যাংক হিসাবের মোট স্থিতি ৭ কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ টাকা বুঝে নেন। রতন কুমার সাহার সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে ২০১৯ সালের ৩ মে তাকে ওএসডি করা হয়। এরপর একই বছরের ১১ জুন পরবর্তী অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন কলেজের ব্যাংক হিসাবগুলোর স্থিতি ছিল ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪৬ টাকা। অভিযোগে আরো বলা হয়, এ কলেজে ৪৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতওয়ারি আর্থিক আয়-ব্যয় নির্বাহ করা হয়ে থাকে। ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে এসব হিসাব থেকে তত্কালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক রতন কুমার সাহা, হিসাবরক্ষক আব্দুল হান্নান ও ক্যাশিয়ার কাজী জাহাঙ্গীর আলমের পরস্পর যোগসাজশে ২ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ৯০৭ টাকা আত্মসাত্ করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক রুহুল আমিন ভূঁইয়া ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগ দিয়ে কলেজের পাঁচ শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেন। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষা তহবিল, উন্নয়ন তহবিল, ল্যাবরেটরি তহবিল, অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী তহবিলসহ উল্লেখযোগ্য ২২টি খাতের আয়-ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখেন। এগুলোতে বিল-ভাউচার নেই, এমনকি ব্যয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা কমিটির রিকুইজিশনও ছিল না। মালামাল গ্রহণ বা বিতরণের প্রমাণ নেই এবং বিধি মোতাবেক ক্রয় বা ব্যয় হয়নি মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি অধ্যাপক রতন কুমার সাহার কর্মকালীন বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। এছাড়া একই অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গঠিত আরেকটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ঐ টাকা আত্মসাতের সত্যতা মিলে।
মামলার প্রধান আসামি সাবেক ঐ অধ্যক্ষ নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের হেমেন্দ্র চন্দ্র সাহার ছেলে, সাবেক হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরি এলাকার মৃত মো. আবদুল মালেকের ছেলে (তার বর্তমান কর্মস্থল ফরিদপুরের চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ) ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কাজী জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খলিলপুর গ্রামের কাজী এরশাদুর রহমানের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বিকালে দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ২ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৯০০ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রতন কুমার সাহা, হিসাবরক্ষক আব্দুল হান্নান ও ক্যাশিয়ার কাজী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা হয়েছে।
