একবার হাত তুলে দেখেন, সেই হাত আমরা ভেঙে দেবো, বিএনপিকে হুঁশিয়ারি যুবলীগ চেয়ারম্যানের

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৩, ২০:৪২

বিএনপিকে হুঁশিয়ারি করে আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, যুবলীগ শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি’র হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠনের প্রত্যেকে এক একটা যোদ্ধা। এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দুর্বল ভাববেন না। আর একবার হাত তুলে দেখেন, সেই হাত আমরা ভেঙে দেবো। যুবলীগের নেতা-কর্মীরা এদেশের অগ্রযাত্রায় জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে যে কোন আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত।

রোববার (৩০ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, আমার দাদী শেখ মুজিবুর রহমানের মেজো বোন তিনি একটা কথা বলতেন যে, কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। বিএনপি যতই সাধু সাজার চেষ্টা করুক তাদের আসল চেহারা কিন্তু বের হয়ে আসছে। ভিসা নীতির হওয়ার পরেই তারা গত মাসে চট্টগ্রামে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে রাতের অন্ধকারে বাস পুড়িয়েছে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে তৈরি ম্যুরালে ভাংচুর চালিয়েছে এবং যান-মালের ক্ষতিসাধন করেছে। জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত আমাদের ৪-৫ জন নেতা-কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এর নিন্দা করার ভাষা আমাদের নাই।

তিনি বলেন, তাদেরকে শুধু সতর্ক করে বলতে চাই-আপনারা এদেশের শান্তি প্রিয় নাগরিকদের জান-মালের ক্ষতি করবেন, তাদের গায়ে হাত তুলবেন আর যুবলীগ বসে বসে আঙ্গুল চুষবে, এটা আপনারা কল্পনা করতেও পারবেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সৃষ্টি করেছে মুজিব বাহিনীর প্রধান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি। এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান। মুক্তিকামী বাঙালির সন্তান। এদেরকে আপনারা এইভাবে দমন পীড়ন করবেন আর আমাদের যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বসে থাকবে না।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আমি আপনাদের আহ্বান জানাবো, আপনারা সজাগ এবং সচেতন থাকবেন। এই খুনির দল যারা ১৯৭১ সালে শান্তিপ্রিয়, স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যারা ১৪ই ডিসেম্বর আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট যারা ঘটিয়েছিল সেই খুনিদের নিয়ে যারা রাজনৈতিক  জোট করে, তাদের যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের নিয়ে এই বিএনপি-জামাত। এ কারণেই তারা খুনিদের দল। তাদের নেত্রী এদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়েও কটূক্তি করতে ছাড়ে নাই। তারা ২০০১ সালেও ঐ খুনিদের সাথে জোট করে ক্ষমতায় এসেছে। তারা এই বাংলাদেশ বিরোধী, তারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা এদেশের স্বাধীনতা লুণ্ঠন করতে চাই।

পরশ বলেন, আজকে যখন বাংলাদেশ একটা প্রগতিশীল উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ার পথে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যখন উন্নয়নের মহাসড়কে তখন তারা বিদেশিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে হত্যা এবং খুনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছে। আমাদের নেত্রী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে মনে করেন। এ কারণেই তিনি এদেশের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন করে চলেছেন। আজকে শেখ হাসিনার উন্নয়ন সারা বিশ্বের রোল মডেল। আল জাজিরার প্রতিবেদনেও আজ স্বীকার করা হয় যে, বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। আজকে শেখ হাসিনার যে অর্জন সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করতে পারে না। আমাদের যুবলীগ এদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যতদিন সজাগ সতর্ক ও সচেতন থাকবে কোন অপশক্তি বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। আজকে তারা হত্যা এবং খুনের পথ বেছে নিয়েছে। এটা তাদের সেই পুরাতন চেহারা। তারা নিজেরাই এখন ভিসানীতির আওতায় পড়ে গেছে। এখন বিএনপি চাচ্ছে যে, নিজে যখন মরবো, সবাইকে সঙ্গে করেই মরবো। কিন্তু আমরা সেই পথ বেছে নিবো না। আমরা শান্তি প্রিয় আছি, আমাদের শান্তি প্রিয় মনোভাবকে দুর্বলতা ভাববেন না।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানার সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মঞ্জুর আলম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, আবু মুনির মো. শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মুস্তাফিজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল মুকিত চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক কাজী খালিদ আল মাহমুদ টুকু, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকতসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।

ইত্তেফাক/এবি