বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বরগুনায় ১২ বছর আগের হত্যা মামলায় বরখাস্ত হলেন ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ২০:৫৪

বরগুনার বামনায় ১২ বছর আগের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাইদুর রহমান সবুজ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত সাইদুর রহমান সবুজ উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ও তৎকালীন চেয়ারম্যান।

বুধবার (২ আগস্ট) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেয়। আরও একটি চিঠিতে কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ২২ মার্চ বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের শিংড়াবুনিয়া গ্রামে মো. হাবিবুর রহমান সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করে গ্রামবাসী। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই ব্যক্তিকে নির্যাতনের পর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ ও তার সহযোগীরা ওই ব্যক্তিকে পুনরায় বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সেই ঘটনায় চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সিআইডির তদন্তে তিনিই প্রধান আসামি উল্লেখ করে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বড় তালেশ্বর গ্রামের মো. লিটন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর তার অপসারণ দাবি জানিয়ে একটি আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান গত বছরের ২ নভেম্বর বরগুনা জেলা প্রশাসককে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাকে অপসারণের জন্য সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। জেলা প্রশাসকের সুপারিশ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় ২ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বামনা উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তজা আহসান বলেন, এই ঘটনার সময় চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় তার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন। তখন তাকে ফোনে বিষয়টি জানালে সে চলে যায়। সে চলে যাওয়ার আগেই গ্রামবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়।

বামনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোল্লা  বলেন, চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের জন্য আবেদনকারী মো. লিটন মোল্লা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে তার (বর্তমান চেয়ারম্যান সবুজ) কাছে হেরেছেন। ওই ক্ষোভ থেকে তিনি তার অপসারণ চেয়ে আবেদন করেন। তবে একই মামলায় ২ নম্বর আসামি ও বর্তমান ইউপি সদস্য তার অপসারণ তিনি চাননি। এতে আমরা বুঝতে পারি এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ বলেন, ঘটনার সময় আমি বামনা সদরে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিলাম। আমাকে যারা সংবাদটি জানিয়েছিল তাদেরকে তখন আমি বলেছি যাতে তার ওপর কেউ আঘাত না করে। আমি ইউনিয়ন পরিষদে আসার পর স্থানীয়রা আমার কাছে তাকে নিয়ে আসে। ততক্ষণে গ্রামবাসীর পিটুনিতে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়। তখন আমি পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই মৃত্যু হয়। আমি তার গায়ে হাত দেইনি। অথচ বিরোধীদের পরামর্শে আমাকেই প্রধান আসামি করা হয়েছে।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্তরা হালদার বলেন, চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। দ্রুত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।

ইত্তেফাক/এবি