যশোর কালেক্টরেট চত্বর যেন আবর্জনার ভাগাড়

এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হওয়ার ঝুঁকি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০৩:৩০

১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতিতে নির্মাণ করা যেসব ভবন কালের সাক্ষী হয়ে সগর্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে উপমহাদেশের সর্ববৃহত্ যশোর কালেক্টরেট ভবনটি অন্যতম। নান্দনিক শৈলীর অনবদ্য এ ভবনটি আর্কিটেকচারাল লাইটিং, পদ্মপুকুরে আরো মোহনীয় রূপ লাভ করেছে। এতে প্রতি দিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এই ভবন ও আঙিনায় ভিড় করেন। কিন্তু ভবনের পূর্বপাশের মালখানার পরিত্যক্ত গাড়ি আর ময়লার ভাগাড় ভবনটির সৌন্দর্যকে শুধু ম্লানই করছে না, রীতিমতো এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে। নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাসান মজুমদারও এমন শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার আগের মামলার আলামত এগুলো। এসব সরানোর ক্ষেত্রে আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্য অফিশিয়াল উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও আমি চেষ্টা চালাব। জেলা ও দায়রা জজকে অনুরোধ জানাব দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার। কারণ ডেঙ্গু পরিস্থিতি অন্যদিকে টার্ন করাতে পারে এখানকার অবস্থা। এখানে পুরোনো গাড়ির মধ্যে পানি জমে থাকে।’

সূত্র জানায়, বিচার বিভাগ শাসন বিভাগ থেকে পৃথক হওয়ার আগে বিভিন্ন অপরাধের গাড়ি মামলার আলামত হিসাবে কালেক্টরেট ভবনে অবস্থিত মালখানার হেফাজতে রাখা হতো। মালখানার সামনে জেলা তথ্য অফিস-লাগোয়া খোলা স্থানে এসব পিকআপ, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, ভেসপা ইত্যাদি জমা রাখা হতো। কালে কালে এসব গাড়িতে গাছপালা তো জন্ম নিয়েছেই, আশপাশের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় স্থানটি এখন উন্মুক্ত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। আশপাশের হোটেল এবং দোকানের সব ময়লা ফেলা হয় সেখানে। দিনের পর দিন সেখানে ময়লা ফেলায় পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এখন দুষ্কর। সেখান থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। পুরোনো গাড়ির আড়াল থাকায় পথচারীদের প্রস্রাবখানায়ও পরিণত হয়েছে স্থানটি। খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা যানবাহনগুলোতে জমছে বৃষ্টির পানি। মশার প্রজনন ও আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। দিনে দিনে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সাথে বাড়ছে মৃত্যু। এ পর্যন্ত যশোরে ৪১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যশোরে অব্যবহৃত টায়ারে জমে থাকা পানির কারণে বেশি ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। কারণ সেখান থেকে এডিস মশার বিস্তার ঘটছে।

সিভিল সার্জন অফিসের কীটতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘জমে থাকা পানি থেকে এডিসের যে বংশবিস্তার হচ্ছে, তা প্রমাণিত। আমি নিজে বৃহস্পতিবার কালেক্টরেট এলাকায় দেখেছি, পরিত্যক্ত গাড়িতে পানি জমে থাকতে। সূর্যের তাপে অবশ্য শুকিয়েও যায়। তবে পুরো পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে শিগিগরই একটা টিম ওখানে কাজ করবে। ওখানে লার্ভা আছে কিনা তা দেখবে।’ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যশোরের সভাপতি শাহীন ইকবাল বলেন, ‘যশোরের বাড়ি বাড়ি সবাইকে পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবধান করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের মধ্যে যে অবস্থা, তা দুর্ভাগ্যজনক। কালেক্টরেট চত্বরের ময়লার ভাগাড় মশার বংশবৃদ্ধির উত্তম স্থান। অবিলম্বে এই স্থান পরিষ্কার করে এডিস মশার হুমকি রোধ করতে হবে। একই সঙ্গে সৌন্দর্যবৃদ্ধিরও উদ্যোগ নিতে হবে।’

ইত্তেফাক/এসটিএম