পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাউইকি ও লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিটানাস নৌসেদা বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া থেকে বেলারুশে চলে আসা ভাড়াটে ওয়াগনার বাহিনী ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলকে অস্থিতিশীল তৈরির চেষ্টা চালাতে পারে। এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দুই দেশের সরকার প্রধান পোল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুওয়ালকিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওয়াগনার বাহিনী অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই বাহিনীর ইউনিটগুলো ন্যাটোর পূর্ব দিকে মোতায়েন করা হয়েছে। এতে ঐ অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হবে। কয়েক দিন আগে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, ওয়াগনারের ১০০-র বেশি যোদ্ধা পোল্যান্ড ভূখণ্ডের কৌশলগত দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, পোলিশ ও লিথুয়ানিয়ার সীমান্ত মুক্ত বিশ্ব সীমান্ত বেলারুশে ওয়াগনার যোদ্ধাদের উপস্থিতি একটা উদ্বেগের বিষয়। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিটানাস নৌসেদা বলেছেন, সীমান্তে আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই জনের আলোচনা হয়েছে।
টুইটারে তিনি আরো বলেছেন, বেলারুশে ওয়াগনারের উপস্থিতি মানে আমাদের দুই দেশ এবং ন্যাটোর অন্যান্য মিত্রের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণ। আমরা প্রস্তুত আছি। ওয়াগনার ভাড়াটে গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে বেলারুশের সঙ্গে নিজ নিজ সীমানা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করছে লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ড। রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্তাদের বিরুদ্ধে স্বল্পস্থায়ী বিদ্রোহের পর ওয়াগনার যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয় বেলারুশ।
বেলারুশে ড্রোন বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে ইইউ
বেলারুশে ড্রোন বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের উপস্থাপককে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ও বিরোধীদের ওপর মিনস্কের দমন-পীড়নের ঘটনায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বেলারুশের নেতা আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর আগে রুশ বাহিনীকে বেলারুশের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন তিনি।
২০২০ সাল থেকে বিরোধীদের দমন ও ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় মিনস্কের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ। ইতিমধ্যে বেলারুশের নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা রয়েছে। সবশেষ এই পদক্ষেপের নিশানা হলেন বেলারুশের সরকারপন্থি ৩৮ জন ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় তিনটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, প্রসিকিউটর ও কারা কর্মকর্তা।
ইউক্রেনে রণক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর পণ্যের সরবরাহ কমাতে বেলারুশে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও ড্রোন রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ইইউ। এছাড়া রাশিয়া যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে এমন পণ্য যেমন সেমিকন্ডাক্টর, ক্যামেরা সরঞ্জাম ও অপর প্রযুক্তি বিক্রিতে বিধিনিষেধ জারি করেছে ২৭ দেশের ব্লকটি। ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছেন, বেলারুশের শাসকদের বিরুদ্ধে আমরা আরো পদক্ষেপ ঘোষণা করছি। তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার উসকানি ছাড়া অবৈধ আগ্রাসনের সঙ্গী।

চার মাস পর নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলো আইএস
মেয়াদ শেষের তিনদিন আগেই ভেঙে যাচ্ছে পাকিস্তানের সংসদ