‘ইডেন গার্ডেন্স বাংলাদেশের জন্য হোম ভেন্যু’

*গ্যালারিতে ৪০ হাজার আসন কমানো হয়েছে

*আধুনিক প্রেসবক্স

*বদলে গেছে ক্রিকেটারদের ড্রেসিং রুম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ০৪:৪৫

আকাশবাণী কলকাতা। ইডেন গার্ডেন্স। এই দুটি নামই বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত। কলকাতায় ভিআইপি সড়কের পাশে দুই ভবনই গায়ে গা লেগে দাঁড়িয়ে আছে। এর সামনে দিয়ে যারা যাওয়াআসা করছেন সহজেই চোখে পড়ছে নতুনরূপে সেজে উঠছে ইডেন গার্ডেন্স। রাস্তার ওপর থেকেই দেখা যায় শ্রমিকেরা সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার পরও কাজ করে যাচ্ছেন। সৌরভ গাঙ্গুলির বড় ভাই, পশ্চিমবঙ্গ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিএবি) বর্তমান সভাপতি স্নেহাশিষ গাঙ্গুলি সংস্কার কাজের শব্দ আর ধুলোর মধ্যেই দ্রুতলয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেলেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্নেহাশিষ, ‘এখানে বাংলাদেশ-পাকিস্তান, বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। এক কথায় বলতে পারেন ইডেন গার্ডেন্স হবে বাংলাদেশের জন্য হোম ভেন্যু। বাংলাদেশের ক্রিকেটার, দর্শক যারাই আসছেন তাদের জন্য এটা নিজ বাড়ির মতোই মনে হবে। আপনারা মিরপুরে যেভাবে আনন্দ করেন, ইডেন গার্ডেন্সেও আনন্দ করবেন।’

‘ওরা (বাংলাদেশ) আগেও খেলে গেছে, এখানে পিঙ্ক বলের টেস্ট ম্যাচ ছিল ওটি। এখানে খেলা হলে বাংলাদেশের কথা আমাদের মাথায় থাকে। কীভাবে বাংলাদেশকে আমরা যতটা সম্ভব আপ্যায়ন করতে পারি, সেটা ভুলে যাই না-বললেন স্নোহাশিষ। সিএবির সভাপতি সবচেয়ে বেশি যেটা বললেন, ‘সুযোগ সুবিধা হবে টপক্লাস।’

সিএবির ভেতরে ধুলোয় অন্ধকার। চারদিকে সংস্কার কাজ চলছে। পুরোনো সিঁড়িতে টাইলস বসছে। টাইলস কাটার চিকন আওয়াজ কানে ঢুকে যায়। দেওয়ালে বোর্ড লাগানো হচ্ছে। একদিকে রঙের কাজ। অন্যদিকে কাঠমিস্ত্রি পেরেক ঠোকার ঠক ঠক শব্দ। সিঁড়িতে উঠে বিদ্যুৎ মিস্ত্রি তারের লাইন টানছেন। টয়লেটে সব বদলে ফেলা হয়েছে। প্রেসবক্সে এক্সিকিউটিভ চেয়ার। সাদা রঙের একটি টেবিলে দুটি করে চেয়ার। বসানো হচ্ছে ওয়াইফাই সিস্টেম। ১৫০ সিটের প্রেসবক্স। অতিরিক্ত সাংবাদিকদের জন্য আরও ৫০ সিট থাকবে প্রেসবক্সের ওপরে। মিডিয়া সেন্টারও একই সংখ্যায়, ১৫০। স্নেহাশিষ গাঙ্গুলি বললেন, ‘আপনি দেখেই বুঝতে পারছেন কীভাবে কাজ চলছে। একটা স্মরণীয় বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। যারা এবার ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপ দেখতে আসবেন, তারা পুরো বিশ্বকাপটা এনজয় করবেন। কারণ ইডেন বিশ্বের এমন একটা মাঠ, যেটা খুবই স্পেশাল, সবার ক্ষেত্রে। ক্রিকেট দুনিয়ায় প্লেয়াররা মুখিয়ে থাকেন, ইডেন গার্ডেন্সে খেলবেন বলে। আমি বলব বাংলাদেশ খুবই লাকি, যে ওরা দুটি ম্যাচ পেয়েছেন এখানে।’  

২০১৯ সালের নভেম্বরে পিঙ্ক বলের প্রথম ডে-নাইট টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ-ভারত। ক্রিকেটারদের তখনকার ড্রেসিং রুমগুলোর চেয়ে এখন আরও আধুনিকতায় গড়ে তোলা হয়েছে। এখন বিশ্ব সেরা ড্রেসিং রুম উপহার দেওয়া হবে। সাকিবরা খেলতে এলে বুঝবেন কতটা পরিবর্তন হয়েছে। হসপিটালিটি বক্স, করপোরেট বক্স ২৪টি। ভেতরে যারা বসবেন, তাদের কাছে মনে হবে খেলার মাঠটাকে নিজের বেডরুমে নিয়ে এসেছেন-জানাচ্ছিলেন বোর্ড কর্তারা।

সাধারণ দর্শক গ্যালারিতে ছিল বক্স চেয়ার। সেসব উপড়ে ফেলে এখন যে ধরনের চেয়ার বসানো হয়েছে, সেটা আরও আরামদায়ক, দাবি সিএবির। দর্শকের আরামের কথা ভাবতে গিয়ে ইডেন থেকে ৪০ হাজার চেয়ার কমিয়ে ফেলা হয়েছে। স্নেহাশিষ বললেন, ‘৬৫ হাজার দর্শক ধরবে।’ দর্শক প্রবেশের জন্য ৯টি গেট রাখা হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমেই যেন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে কষ্ট না হয়।

বিশ্বকাপে ডেনাইট ম্যাচ হবে। তাই এলইডি লাইট স্থাপন আগেই করা হয়েছে। আইপিএলের খেলা চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন কিছু থাকলেও সেটি করা হচ্ছে। ঝলমলে আলোতে খেলা উপভোগ করা যাবে।

ইত্তেফাক/এমএএম