ই ম রু ল নূ র
‘রূপসীর ওই রেশমি চুলে, দোলে গো কেয়া দোলে’ এমন সংলাপটি নব্বই দশকে সবার মুখেই ছিল। কেয়া নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনে রূপসী মৌকে উদ্দেশ্য করে গানে গানে নোবেলের এই সংলাপটি আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। সেই বিজ্ঞাপনে রূপসীর বেশে হাজির হয়েছিলেন নন্দিত মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ। নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন মৌ-নোবেল জুটি।
মৌ তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপনে। কাজের মান ও অভিনয় স্বকীয়তায় জনপ্রিয়তার আকাশ ছুঁয়েছেন তিনি। কেয়ার বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনে মৌ ছিলেন অবধারিত মডেল। কেয়া লিপজেল, কেয়া সুপার লেমন সোপ, কেয়া পেট্রোলিয়াম জেলি, কেয়া টেলকম পাউডার, কেয়া লন্ড্রি সোপের বিজ্ঞাপনগুলো সুন্দরীতমা মৌকে পৌঁছে দিয়েছিল বাংলার ঘরে ঘরে।
সম্প্রতি বিজ্ঞাপনে খুব একটা দেখা মিলে না তাঁর। সংসার আর টুকটাক নাটক-টেলিছবির অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত আছেন। তবে নতুন খবর হলো, নতুন একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলেন তিনি। এটি মূলত মিউজিক ভিডিও কমার্শিয়াল (এমভিসি)। যেখানে মিউজিক ভিডিও আকারে একটি পণ্যকে উপস্থাপন করা হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি স্টুডিওতে এর শুটিং শেষ করেছেন মৌ। শাহরিয়ার পলকের নির্দেশনায় ইকো প্লাস রেফ্রিজারেটরের এই কমার্শিয়ালে মৌকে দেখা যাবে ছয়টি রূপে।
একটা সময় জিঙ্গেল নির্ভর বিজ্ঞাপনই এ দেশে বেশি হতো। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নির্মাণ অনেকাংশে কমে গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় অনেক বছর পর এমন একটি কাজে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত মৌ। এই বিজ্ঞাপনচিত্রে কখনো বাঙালি বধূ, কখনো রেস্টুরেন্টের ওয়েটার, কখনো গার্মেন্টস কর্মী, কখনো র্যাপার, কখনো সিনেমার নায়িকা—এরকম ভিন্ন ছয়টি রূপে তাঁকে দেখতে পাবেন দর্শক। এখানে ব্যবহূত গানের কথা লিখেছেন রাতুল আমিন এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মার্শেল ও জন। আর পুরো সংগীত তত্ত্বাবধান করেছেন শাহরিয়ার পলক। মিউজিক ভিডিও কমার্শিয়ালের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছেন পাঁচ কণ্ঠশিল্পী—ঐশী, ফকির শাহাব উদ্দিন, জন, মার্শেল ও বিশাল। সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, ‘এই কমার্শিয়ালে নতুনত্ব রয়েছে। আগে কখনো এতোটা বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা হয়নি। বেশ বড় ও পরিপাটি আয়োজন। কাজ করতে ভালো লেগেছে। আর মনে হচ্ছে, এটি প্রচারিত হলে দর্শকদের ভালো লাগতে পারে।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মডেলিং, নাচ ও অভিনয়ে স্বকীয়তা অর্জন করলেও তাঁকে দেখা যায়নি বড় পর্দায়। তাঁর সমসাময়িক অনেককে দেখা গেলেও মৌয়ের কখনোই চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহ ছিল না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমার ওই সময়টাতে আমি কখনো সিনেমা করার কথা চিন্তাই করিনি। তবে এখন সিনেমা করার ইচ্ছা আছে। এখন অনেক ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। এগুলো দেখে কাজ করার আগ্রহ জন্মেছে। যে গল্প ও স্ক্রিপ্ট পড়ে মনে হবে যে, এটা আমার জন্যই করা হয়েছে, সেটাতেই আমি কাজ করব। আমি সবসময় গল্প ও পরিচালককে প্রাধান্য দিয়েছি, সহশিল্পী কে হবে তা ভাবিনি। আমার কাছে গল্পটাই প্রধান।’
