লেখকেরা নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের মতো হয়

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২০:৩০

ই ন্টা র ভি উ

হিমু আকরাম জনপ্রিয় একজন পরিচালক। তাঁর হাতে রয়েছে অতি সাধারণ গল্পকে অসাধারণভাবে টিভি পর্দায় দেখানোর ম্যাজিক। গল্পকার থেকে নাট্যকার। তারপর পরিচালক হয়ে গত এগারো বছর ধরেই টেলিভিশনে নিয়মিত তিনি। নির্মাণ করেছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক। গল্প ও নাটক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলো তাঁর সঙ্গে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন খালেদ আহমেদ

অনেকদিন পরে আবার কাজ শুরু করলেন?

হ্যাঁ, প্রায় এক বছর পর। গত একবছর আমেরিকায় ছিলাম। সিটিজেনশিপের প্রক্রিয়ার জন্য থাকতে হয়েছে। এবার ইউএস সিটিজেন হয়েই দেশে ফিরেছি।

দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকাতে টেলিভিশনের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে কেমন?

আমার ক্ষেত্রে একদমই না। আমি দেশে না থাকলেও টিভি পর্দায় ছিলাম নিয়মিত। দুটো ধারাবাহিকের শুটিং করে গিয়েছিলাম—‘বিদেশি পাড়া’ ১২৯ পর্ব, ‘চম্পাকলি টকিজ’ ৫২ পর্ব। একুশে টিভি ও আরটিভির জন্য। সেগুলো প্রচারিত হয়েছে আমেরিকায় থাকার সময়।

মিডিয়ায় এখন অনেক নির্মাতার ছড়াছড়ি। বিষয়টা কিভাবে দেখেন?

এটা পজেটিভ। বেশি নির্মাতা মানেই বেশি বেশি কাজ। এখন প্রতিযোগিতার মতোই কাজ করা উচিত। একে অন্যের দোষ খুঁজে না বেড়িয়ে, কার চেয়ে কে বেশি ভালো কাজ করতে পারে, সেটা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আনন্দের খবর হলো, বেশ কিছু তরুণ নির্মাতা তৈরি হয়েছে আমাদের মিডিয়ায়। যাদের কাজ দেখে সত্যিই মুগ্ধ হই। তবে ভালো নাটকের সংখ্যা কম।

কিভাবে মনে রাখার মতো কাজ হবে?

তার জন্য স্টোরি মেকার দরকার। শুধু ভালো নির্মাতা হওয়ার পেছনে না ছুটে ভালো স্টোরি মেকারও হতে হবে। গল্প না বুঝলে ভালো নাটক কখনোই হবে না। মোশাররফ করিম, আফরান নিশো, অপূর্ব, মেহজাবিন, তিশার চেয়েও বড় স্টার হলো ভালো গল্প। ভালো গল্পের সঙ্গে সঠিক কাস্টিং মিলালে সেই নাটক অবশ্যই দর্শক মনে রাখে।

ইউটিউব ভিউয়ের ওপর নাটকের মান নির্ণয় করা কতটা যৌক্তিক?

পুরোটাই অযৌক্তিক। ইউটিউবে এমন অসংখ্য মানহীন নাটক আছে, যেগুলোর ভিউ তিন-চার মিলিয়নের মতো। অথচ দুর্ভাগ্য হলো, সেই নাটকগুলো পরিবার-পরিজন নিয়ে বসে দশ মিনিট দেখার উপায় নেই। বাংলা নাটকের প্রতি দর্শকদের টান অনেক পুরনো। পুরো পরিবার নিয়ে বসে নাটক দেখার কালচার আমাদের আছে ৯০ দশকেরও আগে থেকে। ইউটিউব কিছু দর্শকদের নাটক থেকে দূরে সরিয়ে দেবে যদি মানের বিচার না করা হয়। শুধু বুস্টিং করে ভিউ বাড়িয়ে কী লাভ, যদি দর্শকের মন না ছোঁয়!

ইউটিউবের মতো এত বড় প্লাটফর্মে কেন এমন হচ্ছে?

কারণ, অবাধ স্বাধীনতা। ইউটিউবে বলতে গেলে সেইভাবে কোনো প্রিভিউ কমিটি নেই। আপনি চাইলে ভাদাইম্যার গল্প, অশ্লীল ভিডিও কিংবা আধুনিক ড্রেস পরা স্ল্যাং ডায়ালগের নাটকও ইউটিউবে আপলোড দিতে পারেন। সেটা আটকাবে কে? কিন্তু টেলিভিশনে তা সম্ভব নয়। টেলিভিশনে থাকে স্ট্রং প্রিভিউ কমিটি। যার কারণে মানহীন নাটক প্রচারিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। গোলাপ হাজার বছর পরেও গোলাপ! টেলিভিশন আমার কাছে তেমনি মনে হয়।

লেখক জীবনের কথা বলুন, নতুন কী লিখছেন?

আমার প্রথম গল্প ছাপা হয় ২০০০ সালে। সাপ্তাহিক ‘যায় যায় দিনে’। নাম ছিল ‘অপেক্ষা’। তারপর থেকে বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য পাতায় অসংখ্য ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৬-এ প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে ঐতিহ্য প্রকাশন থেকে। নাম ‘সে রাতে বৃষ্টি ছিল’। দ্বিতীয় বই প্রকাশিত হয়েছে ২০০৮-এ। নাম ‘কিছু জল কিছু শূন্যতা ঘিরে’। নতুন একটা ধারাবাহিক গল্প লিখছি ‘প্রথম আলো’তে। নাম ‘জানালায় আসে না কেউ’। এটা সামনের বইমেলায় আসবে।

নতুন কাজ কী করছেন?

নতুন বেশকিছু টেলিফিল্ম করব। ‘সখিনা’, ‘নদীর নাম মায়াবতী’, ‘আলতা বানুর প্রেমচাঁদ এবং রেশমি চুড়ি’, ‘মধুবালা নিতাই দাসের বউ ছিল’, ‘খোয়াব’। এগুলো সবই অফট্র্যাকের গল্প। দুটো ধারাবাহিক করছি ‘শান্তি মলম ১০ টাকা’ ও ‘হাই ভোল্টেজ’। ধারাবাহিক দুটোই কমেডি।

গল্পকার, নাট্যকার ও পরিচালক—কোন পরিচয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

গল্পকার ও নাট্যকার পরিচয় বেশি টানে। পরিচালক হওয়া খুব বেশি কঠিন কিছু না। গল্পকার হওয়া কঠিন। এটা কেউ চাইলেই হতে পারে না? বিষয়টা নাজিল হওয়ার মতো। আমি জানি না কোথা থেকে শব্দ আসে, চরিত্র আসে। হাসায় কাঁদায়। কেউই জানে না! না গল্পকার, না নাট্যকার। আমি প্রথমে একজন স্টোরি মেকার। তারপর পরিচালক।

আপনার সংসারের গল্প শুনি, প্রেম-বিয়ে...

সংসার, বিয়ে এসব হয়ে ওঠেনি এখনো। হয় হয় করেও থেমে যায় বারবার। লেখকেরা নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের মতো হয়! চারপাশে ছড়িয়ে থাকে অনেক প্রেম আর মায়ার গল্প। অথচ দিনশেষে ব্যথা নিয়েই ঘরে ফিরে তারা, আমিও।