বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ১২

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ২০:১১

দীর্ঘ ৯ বছর পর রাজবাড়ীতে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন (২২) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। রোববার (৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা. জাকিয়া পারভীন এ রায় দেন।
 
এ সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে ১২ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফেলু মোল্লার পাড়ার মো. হোসেন পত্তনদারের ছেলে মো. জামাল পত্তনদার (৩৫)।

নিহত রিপন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও দৌলতদিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাবেক সভাপতি মোহন মণ্ডলের ছেলে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ভেতরে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র রিপনকে মাথায় ও বুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ফরিদ শেখও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় রিপনের মামা খলিল মণ্ডল বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি জামাল পত্তনদারকে হত্যায় ব্যবহৃত সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রিপনের বাবা মোহন মণ্ডল বলেন, যারা আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এই ছলনার রায় আমি মানি না। ন্যায়বিচার পেতে আমি উচ্চ আদালতে যাবো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. উজির আলী বলেন, রিপন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যেহেতু ১২ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সেহেতু বাদীপক্ষ খুশি না হলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে।

ইত্তেফাক/পিও