গ্যালারি থেকে আসছে আওয়াজ- ‘মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’। মাইক্রোফোন হাতে তখন সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। প্রশ্নকর্তা তাকে সেদিকে মনোযোগ দিতে বললেন। উত্তরে এই ব্যাটার জানালেন, ক্রিকেটে একজনই শুধু মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি, তিনি এবি ডি ভিলিয়ার্স।
অহং দমিয়ে রেখে সূর্যকুমার যতই মাটিতে পা রাখেন না কেন, ভারতীয়দের কাছে তিনিই ‘মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’। ভারতীয় গণমাধ্যমের ভাষায় যিনি ‘ক্রিকেটের সূর্য’। সূর্যকুমার নামটা ছোট করে সূর্য বলে ডাকা আর কী। সেই সূর্য কি এখন ডুবতে বসলো?
বয়স তার এখন ৩২। শারীরিক ক্ষমতা আমলে নিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও কয়েক বছর পারফর্ম করে যাওয়ার কথা। তারপরও কেন সূর্যকুমারের ফুরিয়ে যাওয়ার কথা উঠছে? কারণ তার ফর্ম। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তোলপাড় তোলা এই ব্যাটার নিজের সঙ্গেই যুদ্ধ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। ‘প্রিয়’ ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতেও ভালো নেই সূর্যকুমার।
দেরিতে দেশের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন বলে ভারতীয় অনেক ভক্তের মনেই আছে আক্ষেপ। সূর্যকুমারের নিজেরও তা থাকার কথা। আইপিএলে ধারাবাহিক ভালো খেলার পরও যে ৩০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে তার।
২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে ভারতের জার্সিতে অভিষেক। প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। ওই বছরের জুলাইয়ে ওয়ানডে জার্সি গায়ে জড়ান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাদা জার্সিতে অভিষেক সূর্যকুমারের। টেস্ট খেলেছেন ওই একটিই। তাই এই ফরম্যাটের ময়নাতদন্ত না করাই শ্রেয়।
আইপিএল দিয়েই যেহেতু তিনি আলোচনায়। তাহলে টি-টোয়েন্টি দিয়েই শুরু করা যাক। এই ফরম্যাটে খেলা ৫০ ম্যাচে ১৩ হাফসেঞ্চুরি ও ৩ সেঞ্চুরির সংখ্যা প্রমাণ দেয় কুড়ি-বিশের লড়াইয়ে সূর্যকুমার কতটা সফল ও কার্যকরী। কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব যে অন্য কথা বলছে!
এ বছরের শুরু থেকেই সূর্যের তাপ কমতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর খেলা পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে তার ইনিংসগুলো যথাক্রমে- ৪৭, ২৬*, ২৪, ২১ ও ১। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই তিনি ব্যর্থ। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটিতেই হেরেছে ভারত। সেখানে দলের বিপর্যয়ে সূর্যকুমারের অবদান ২১ ও ১।
ওয়ানডেতেও অবস্থা সুবিধার নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে ‘ডাক’ মারার কথা নিশ্চয় মনে আছে। ওই দুঃসময় এখনও পুরোপুরি কাটাতে পারেননি। হ্যাঁ, শূন্যে আর বিদায় নিতে হয়নি; তবে সবশেষ খেলা তিন ম্যাচে নেই কোনও ফিফটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলা তিন ওয়ানডেতে তার ইনিংসগুলো যথাক্রমে- ১৯, ২৪ ও ৩৫।
সাত মাস পেরিয়ে আটে পা দিয়েছে ২০২৩ সাল। মহাকালের ক্যালেন্ডারে আসা এই বছরে সাদা বলের ক্রিকেটে মাত্র একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি সূর্যকুমারের। দুটোই টি-টোয়েন্টিতে। সামনে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগে ৫০ ওভার তো বটেই, ২০ ওভারের ম্যাচেও ভালো নেই সূর্যকুমার।
ভারতীয় ক্রিকেটের সূর্য কি তবে অস্তের দিকে? ভারতের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময়ই হয়তো মিলবে এই প্রশ্নের উত্তর!
