বরগুনায় ৫০ গ্রামে জলাবদ্ধতা, আমন বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায়

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩, ১৪:৩২

বরগুনায় টানা বৃষ্টির ফলে বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৫০ গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি আরও দীর্ঘয়িত হলে ১০ হাজার পুকুর ও ঘেরের মাছসহ আমনের বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায় আতঙ্ক করছে  উপজেলা মৎস্য অফিস ও বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ।

জানা গেছে,  টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী, পাথরঘাটাসহ অন্যান্য উপজেলার অধিকাংশ নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

আমতলী সদর ইউনিয়নের উল্টাখালী গ্রামের নাসির মাহমুদ বলেন, বৃষ্টিতে বাড়ির পুকুর তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি আরও দীর্ঘয়িত হলে মাছ ভেসে যাবে তাই জাল এনে পুকুর পাড় আটকিয়ে দিয়েছি।

বরগুনা সদরের পোটকাখালী, ফুলতলা আবাসন, বরই তলা ফেরিঘাট, স্টেডিয়াম এলাকা, আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া, গুলিশাখালী, খেকুয়ানী, ডালাচারা, গুলকাটা, পূর্বসোনাখালী, পশ্চিম সোনাখালী, হরিমৃতজ্ঞয়, কৃষ্ণনগর, টেপুরা, দক্ষিণতক্তাবুনিয়া, রাওঘা, জয়ালভাঙ্গাসহ অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সুইজ গেট না থাকা এবং খাল কচুরি পানায় ভরে যাওয়ায় পানি নামতে না পাড়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আমতলী পৌরসভার ৩নম্বর, ৫ ও ১নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পানি জমে থাকায় মাটি নরম হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এবং সড়কের শতাধিক গাছ ধসে পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জলাবদ্ধতায় সড়ক ডুবে আছে। ছবি: ইত্তেফাক

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সর্দার জানান,আমতলী উপজেলায় ১০ হাজার পুকুর ও ঘের রয়েছে। যে সকল ঘের এবং পুকুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাতে জাল দিয়ে পাড় আটকিয়ে দেওয়ার জন্য চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এসএম বদরুল আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ১১১ ছিল কিন্তু বর্তমানে জেলায় ৮ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা রয়েছে। অধিকাংশ বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি আরও  দুই-চার দিন বিলম্বিত হলে বীজ পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএজে