স্কুলের জায়গায় অনুমোদনহীন মার্কেট নির্মাণ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২২:৩৬

রাজধানীতে পাল্লা দিয়ে রাড়ছে অনুমোদিত ভবন ও মার্কেটের সংখ্যা। ফলে এসব ভবনে প্রায়ই নানা দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এসব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না এমন অভিযোগের শেষ নেই। এমন উদাহরণের একটি মিরপুর-১ এর হযরত শাহ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, ডেভলপার টেকনোপোল বিল্ডার্স ও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্কুলের জায়গায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বিশাল চারতলা মার্কেট নির্মাণ। বিষয়টি নিয়ে ১৬ নভেম্বর ২০২২, চেয়ারম্যান, রাজউকের প্রধান কার্যালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের বরাবর অভিযোগপত্র দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের বয়ান এবং অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মকাণ্ডের মূল হোতা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মাজহারুল কবির মিধাত ও ডেভলপার টেকনোপোল বিল্ডার্সের মালিক মো. মজিবর রহমান। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছে স্কুলটির কার্যনির্বাহী সদস্য ওহাব আলী শিকদার, আবুল হাসানাত, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার, মার্কেট কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদসহ কয়েকজন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজউক মহাখালী জোনাল অফিস ৩/১-এর পরিচালক তানজিনা সারোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস মিয়া, ইমারত পরিদর্শক মো. মুরাদ হোসেনকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে নকশা বহির্ভূত মার্কেট ভবনটি নির্মাণ শুরু করেন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে কিছুদিন না যেতেই আবার ভবনটি নির্মাণ শুরু হয়। যা এখন পূর্ণাঙ্গ মার্কেটে রূপ নিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে আরও জানা যায়, অনুমোদনহীন এই মার্কেটের ৬৫ শতাংশ দোকান বিল্ডার্স কোম্পানি এবং ৩৫ শতাংশ দোকান স্কুলের পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো স্কুলের পাওয়া ৪৮টি দোকান থেকে ২০টি দোকান সভাপতি মাজহারুল কবির মিধাত নিজ নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। যার বাজার মূল্য ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এমনকি বরাদ্দের বাকি দোকানগুলো বিক্রির প্রায় ৩ কোটি টাকা স্কুলের ফান্ডে জমা না দিয়ে তারা আত্মসাত্ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দোকানদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক দোকানি। চাঁদা দিতে না পারলে তাদের বিনা নোটিশে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মিধাতের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ব্যবসায়ী মীর মজিবুর রহমানকেও চাঁদা না দেওয়ায় একই কায়দায় দোকানে ভাঙচুর ও বের করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে থানায় অভিযোগও করেছেন তিনি। 

স্থানীয় ও একাধিক ভুক্তভোগীরা ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলী মহিলা কলেজ ও শাহ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্কেটে দোকান কিনে বৈধভাবে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে মার্কেটের ডেভলপার টেকনোপোল বিল্ডার্সের মালিক মো. মজিবর রহমান আন্ডার গ্রাউন্ডে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণ করতে যাচ্ছেন, যা রাজউকের নির্মাণ আইনের পরিপন্থি। আমরা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও ডেভেলপার কোম্পানি ইট, বালু ও সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী জড়ো করেছে। আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে স্কুলে বাকি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। শাহ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্কেটের কারপার্কিংয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে এবং মার্কেটের আর একটি ফ্লোর বাড়িয়ে মার্কেট বড় করা হবে।

এ বিষয়ে স্কুল কমিটির মাজহারুল কবির মিধাতের কাছে জানতে চাইলে ইত্তেফাক অনলাইনকে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন ‘হ্যাঁ, মার্কেটটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন ছিল না। যে কারণে আমি নিজেই অভিযোগ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমাকে পাত্তা না দিয়ে তারা ভবনটি নির্মাণ করেছে। আর দোকান বরাদ্দের টাকা আমি স্কুলের ফান্ডে জমা দিয়েছি। আমার কাছে সেই প্রমাণ আছে।’ 

যদিও রাজউকের খোঁজখবর নিয়ে তার বক্তব্যে সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি মিধাতের কাছে প্রমাণ চাইলেও তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি একটি গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে সব দায় স্কুল কমিটির সভাপতির ওপর চাপিয়ে দেন।

মিরপুর-১ এর হযরত শাহ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়া ৪ তলা মার্কেট নির্মাণ ও রাজউক মহাখালী জোনাল অফিস ৩/১ কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের সঙ্গে ইত্তেফাক অনলাইন হতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে ফোনেও পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/কেকে