রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় বাসা-বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং বিল খেলাপি থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
বুধবার (৯ আগস্ট) সারাদিনব্যাপী রাজধানীর মিরপুর, আমিন বাজার, গুলশান, তেজগাওসহ আশেপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় ওই এলাকায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান বা বাসা-বাড়িতে তাৎক্ষণিক বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে সেই সকল প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাছাড়াও যেখানে অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেছে সেইসব সংযোগ গুলোও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এই বিশেষ অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন তিতাস গ্যাসের ঢাকা মেট্রোর রাজস্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রশিদুল আলম এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. তোফাজ্জল হোসেন।
মিরপুর জনতা হাউজিংয়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, তিনি বিল বকেয়ার পাশাপাশি ১২ টি চুলার অনুমোদন সাপেক্ষে ২২ টি চুলা ব্যবহার করছে, সেই সঙ্গে তিনি বৈধ সংযোগ বলেও দাবি করছে, তিতাসে অভিযানে তার সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
আল্লাহ দান হোটেলের ম্যানেজার ইউসুফ বলেন, ব্যবসায়ীক পরিস্থিতি ভালো না, মালিক হাসপাতালে থাকায় বিল বকেয়া হয়েছে।
মিরপুর শিল্প বাণিজ্যিক জোন-১২ এর ব্যবস্থাপক এ কে এম এমদাদুল হক বলেন, মিরপুর জোনের আওতায় আমরা যে সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিল খেলাপি রয়েছে সেসকল প্রতিষ্ঠানে আমরা অভিযান পরিচালনা করে, ৫ মাস থেকে ১ বছরের ও অধিক সময় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিল বকেয়া রয়েছে, যারা তাৎক্ষণিক বিল পরিশোধ করছে তাদের সংযোগ রেখেছি, যারা করতে পারে নাই তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, অধিকাংশ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে থাকে, এ কারণে বৈধ গ্যাস সংযোগকারীরা গ্যাস কম পাচ্ছেন। এরপরও রাতের আঁধারে একটি চক্র তিতাসের মূল সংযোগ থেকে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে বিভিন্ন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান করে আসছে।
তিতাসের ঢাকা মেট্রোর রাজস্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রশিদুল আলম জানান, দীর্ঘদিন যাবত আমরা নজরদারী করছি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ প্রদান করেছে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য। যারা পরিশোধ করে নাই তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যে কয়টি অবৈধ সংযোগ আছে সেই গুলোও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল খেলাপি ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
