পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষমতা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এরপর তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কে আসবেন তা নিয়ে আলোচনা করতে এবং নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিষদে বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা (এনএ) রাজা রিয়াজের সঙ্গে দেখা করবেন। খবর ডনের।
বুধবার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির স্বাক্ষরিত আদেশে দেশটির নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়া হয়। মধ্যরাতের ঠিক আগে প্রেসিডেন্সি থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি আর্টিকেল ৫৮(১) এর অধীনে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়েছেন।’
সারসংক্ষেপ অনুমোদনের পর ফেডারেল মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ও একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেছে, রাষ্ট্রপতি ‘অবিলম্বে কার্যকর’ সংসদ ভেঙে দিয়েছেন।
বিদায়ী সরকার এখনও পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম দিতে পারেনি। নতুন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেবেন।
তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে তার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে বলতে পারবেন।
শাহবাজ শরিফ বুধবার সংসদে তার বিদায়ী ভাষণে জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর নামের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে সাংবিধানিক প্রয়োজনে তিনি বৃহস্পতিবার রিয়াজের সঙ্গে দেখা করবেন।
রেডিও পাকিস্তানের মতে, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী রিয়াজকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে পরামর্শ করতে একটি বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন।
যদি দু'জন একটি নামের বিষয়ে একমত না হন তবে বিষয়টি সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে, পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) কমিশনের সঙ্গে শেয়ার করা নামের তালিকা থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বাছাই করার জন্য দুই দিন সময় পাবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই পদের জন্য কোনও প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছিলেন, এই বিষয়ে সরকারের মিত্র এবং তার নিজের দলের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ একটি ‘নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া’ যা এক বা দুই দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
অন্যদিকে রিয়াজ এই সপ্তাহের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তিনটি বৈঠক করার পর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর জন্য নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা কোনও রাজনীতিবিদকে তালিকায় রাখেনি। তবে একজন অর্থনীতিবিদকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
