বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয় হত্যা

‘রিকশা চালিয়ে ছেলে বড় করেছি, আমার সব হারায় গেল’

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ১৯:৪২

‘আমি রিকশা চালিয়ে ছেলে বড় করেছি, আমার সব হারায় গেল। বহু কষ্ট করে ছেলেকে মানুষ করেছিলাম, কী নিয়ে থাকব। আমার এ বৃদ্ধ বয়সে উপার্জনের জন্য এই ছেলেটাই ছিল, সেটাও চলে গেল। ছেলে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সঞ্জয় কুমার প্রামাণিকের বাবা।

এর আগে বুধবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয়কে কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর জখম করে। আট দিন পর বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, সঞ্জয়ের সঙ্গে যুবজোট নেতা মোস্তাফিজুরের যখন বিরোধ সৃষ্টি হয়, বিষয়টি উপজেলার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবে শীর্ষ নেতারা ছিলেন উদাসীন। এর মধ্যেই হত্যার ঘটনা ঘটে গেল। ভেড়ামারা শহরে দলীয় কয়েকজন নেতার কথায় এসব জানা গেছে। 

নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয় প্রামাণিক

কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন বলেন, সঞ্জয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান শোভন ১০ বছর আগে ছাত্রদল করতেন। ছাত্রদল থেকে মোস্তাফিজুর রহমান শোভন জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দেন। এরপর জাসদের সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবজোটের নেতা হন। তবে সম্প্রতি তিনি খুবই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কাউকে মানতে চান না। এ জন্য তাঁকে তেমন একটা দলের কার্যক্রমে রাখা হতো না। এ ঘটনার শুরু থেকেই আমরা দলীয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছি, এটা নিছক ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে জাসদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই। 

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নানা দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষে রূপ নেওয়া পরিস্থিতির দায়ভার অধিকাংশ সময় দলের ওপর এসে পড়ে। অথচ এর সঙ্গে দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে না। ভেড়ামারাতে যা ঘটেছে তার কোনো বিরূপ প্রভাবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন ও ১৪ দলের শরিক দল হিসেবে জাসদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের কোনো বিচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনা নেই। 

ভেড়ামারা থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সঞ্জয়ের স্ত্রী বীথি রানী দে বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে প্রধান আসামি করে করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান শোভনসহ ৫ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

 

ইত্তেফাক/এবি