হিজড়াদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১১

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের বসবাস। যাদের আমরা হিজড়া সম্প্রদায় হিসেবে চিনি। আমরা আমাদের চারপাশে হিজড়া সম্প্রদায় দেখতে পাই। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যায় হিজড়া সম্প্রদায়ের দৌরাত্ম্য যেন দিন দিন বেড়ে চলছে আমাদের দেশে। হিজড়ারা প্রায় দলবল নিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে হানা দেয়। কৌশলে ছোট বাচ্চাদের জিম্মি করে বাচ্চাদের মা-বাবা কিংবা আত্মীয়-পরিজনদের কাছ থেকে বড় অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাচ্চাদের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। বাচ্চাদের হিজড়াদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে অভিভাবকদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে হিজড়াদের চাওয়া চাঁদা দিতে বাধ্য হয় অভিভাবকরা। দোকানে দোকানে গিয়ে চাঁদা চাওয়া হিজড়াদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। টাকা না দিলে প্রতিবাদ করলে দলবলে দোকানদারদের গায়ে হাত তুলে। গাড়ি কিংবা ট্রেনে যাতায়াত করার সময় হিজড়াদের সামনে পড়লে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। হিজড়ারা টাকা চায়, টাকা না দিলে কাপড়ে ধরে টানাটানি করে গায়ে হাত তুলে। সঙ্গে বাচ্চা থাকলে বাচ্চা হাত থেকে কেড়ে নেয়। এমন কোনো খারাপ কাজ নাই যে তারা করে না। রাস্তাঘাটে অনেক সময় হিজড়াদের সামনে পড়লে আর রক্ষা নেই। তারা বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গি করে। বিভিন্ন সময় বিয়ের গাড়ি আটকিয়ে তারা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে গাড়ি যেতে দেয় না। মান সম্মানের ভয়ে হিজড়াদের দাবি পূরণ করে বরযাত্রীরা। অনেক সময় বিভিন্ন বিয়ে বাড়িতে হিজড়ারা হানা দেয়। বিয়ের বাড়ির মহিলা শিশুদের জিম্মি করে বড় অংকের টাকা চায়। অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গি করে নাচানাচি করে। মান সম্মানের ভয়ে তাদের দাবি পূরণ করে। অনেক জায়গায় অনেক পুরুষ নারী হিজড়া সেজে চাঁদাবাজি করে। এ যেন মগেরমুল্লুক। হিজড়াদের হাতে যেন আমরা জিম্মি। তারা যা চাইবে আমাদের তা দিয়ে দিতে হবে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা এদের প্রতিরোধ করার কি কেউ নেই। তাদের দৌরাত্ম্য যেভাবে বেড়ে চলছে এদের প্রতিরোধ করা দরকার। এদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার। এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পুরুষরা যাতে মহিলা হিজড়া সেজে চাঁদাবাজি না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হিজড়ারা যেভাবে দলবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি করে আমাদের এদেরকে দলবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। অনেক লোক আছেন যারা হিজড়াদের প্রশ্রয় দেন। এদেরকে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সুযোগ থাকলে এদের বুঝান যা করছে তারা ভুল করছে। সুযোগ থাকলে এদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন। হিজড়াদের লাগাম টানার সময় এসেছে। এদের রাস্তাঘাটে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় দেখে সাধারণ মানুষ এবং বাচ্চারা খুব ভয় পায় এদের কর্মকাণ্ডের জন্য। এদের দৌরাত্ম্য কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে হিজড়াদের দাপটে আমাদের জন্য সমাজে বাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, এম সি কলেজ, সিলেট