ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় ৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ঢাকা) অধীনে ৪ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়ছে।
তদন্ত কমিটির ৩ জন সদস্য শনিবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় আখাউড়া খড়মপুর মাজার এলাকার ঘটনাস্থলে এসে সরজমিনে পরিদর্শন করেন।
আখাউড়া সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (রেলওয়ে) মেহেদী হাসান আহমেদ তারেককে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন রেলওয়ের নিরাপত্তার বাহিনীর একজন সহকারী কমাডেন্ট, একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং একজন সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ডিআরএম (ঢাকা) মো. শফিকুর রহমান বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (রেলওয়ে) মেহেদী হাসান আহমেদ তারেক।
সরজমিনে তদন্ত করতে আসা তদন্ত কমিটির আহবায়ক আখাউড়া সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (রেলওয়ে) মেহেদী হাসান আহমেদ বলেন, আমাদেরকে ৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। আমরা তদন্তের প্রথম দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসলে আবারও সরজমিনে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাবো। মাজার শরীফের ওরশ উপলক্ষে যেহেতু বেশি লোকের সমাগম হয়। সে জন্য এসএসওয়ে/আখাউড়া ট্রেন চালককে মাজার এলাকায় হর্ন দিয়ে দেখে শুনে যাওয়ার জন্য ওরশের একদিন আগে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
জানা যায়, ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুর কল্লা শহীদ (র.) বার্ষিক ওরশ শুরু হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মাজার শরীফের পশ্চিম পাশে ঢাকা-সিলেট বাইপাস রেলপথ দিয়ে মাজারে আসা ভক্তরা মাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন রেলওয়ে সেতু অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় এবং নদীতে ছিটকে পরে ৪ জনের মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতে ২ জন এবং পরদিন (শুক্রবার) নদী থেকে আরও দুই জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
নিহতরা হলো নরসিংদী জেলার মাধবদি থানার নোয়াকান্দি গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে শুকুর মিয়া (৬০), একই জেলার পলাশ উপজেলার মোতালেব মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল (২০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলার চিলকান্দি গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মতি ভূইয়া (৫৫)। অপর ১ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম নামে আহত হয়।
ট্রেনের গতি বেশি থাকায় সেতু পার হতে না পারায় এ দূর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সেতুর দুই পাশে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা কর্মীরা থাকলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাড়াহুড়ো করে সেতু পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নদীতে ছিটকে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) থেকে আখাউড়া খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ ওরফে কল্লা শহীদ মাজার শরীফের সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক ওরশ শুরু হয়েছে। ৭ দিনব্যাপী ওরশ চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। এই ওরশকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে লাখ লাখ ভক্ত আশেকান মাজারে জমায়েত হয়ে থাকে।
