ইতিহাস গড়লো আবাহনী

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২১:৫০

এএফসি কাপ ফুটবলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

আসামের গৌহাটিতে ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম আবাহনীর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ মাঠ সবসময় আবাহনীর জন্য সৌভাগ্যের মাঠ। এই গৌহাটিতে আবাহনী বছর দুই আগে বরদুলই কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছিল। আবাহনী অনেক ট্রফি এনেছে ভারতের মাটি হতে। তবে এবারের যে সাফল্যটি এনেছে তা আবাহনীকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এএফসি কাপের মতো বড় আসরের ফুটবলে আবাহনী আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। ভারতের মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে একমাত্র গোলের জয়টি আবাহনী এএফসি কাপ ফুটবলের আরেকটি পর্বে তুলে দিয়েছে। মিনারভা পাঞ্জাবকে হারিয়ে আবাহনী এখন এএফসি কাপ ফুটবলের ইন্টার জোনাল প্লেঅফ সেমিফাইনালে খেলবে। প্রতিপক্ষ দলের নামটি এখনই জানা যাবে না। আগামী ২ জুলাই এএফসিতে ড্র হবে। তখন জানা যাবে আবাহনীর প্রতিপক্ষ। একটি দলের বিপক্ষে খেলা। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে হবে। তাই দুটি ম্যাচের সুযোগ থাকবে আবাহনীর। সেই ম্যাচ জিতে যদি বেরিয়ে যেতে পারে তাহলে আবাহনী খেলবে আরেকটি ধাপে। সেটি হচ্ছে ইন্টার জোনাল প্লেঅফ ফাইনাল। সেটিও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের ম্যাচ। এ কঠিন বাধা দুটি পেরিয়ে যেতে পারলে আবাহনী ওঠবে ফাইনালে। তখন প্রতিপক্ষ আসবে ওয়েস্ট এশিয়ান জোন হতে। যদিও এখনো অনেকটা দেরি এবং ফাইনালে ওঠার আগে শেষ তিনটি ধাপে এশিয়ান শক্তিশালী ফুটবল দেশের ক্লাব মোকাবিলা করবে। পথ অনেক দূর। আপাতত যতটুকু এসেছে তা এএফসি কাপে আবাহনীর জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য। যা আগে কখনো হয়নি। এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপে খেলেছে আবাহনী। সেখানে সুবিধা করতে পারেনি। নানা তুচ্ছ কারণে বাদ পড়তে হয়েছিল বারবার। নতুন ফরম্যাটে এবার নিয়ে আবাহনী তিনবার এএফসি কাপে খেলছে। আগের দুই আসরেও বিদায় নিতে হয়েছিল। তৃতীয় আসরে আবাহনীর দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে ভাগ্য বিধাতা।

গতকালও আবাহনী দুর্ভাগ্যের কবলে পড়তে যাচ্ছিল। মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে আবাহনী পুরো ৯০ মিনিট লড়াই করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। এমনও মুহূর্ত গেছে খেলার শেষ দিকে আবাহনী গোল খেয়েও ফেলেছিল প্রায়। মহা বাঁচা বেঁচে গিয়েছিল। ভাগ্য যখন পাশে থাকে তখন হয়ত এভাবে বেঁচে যায়। পেছন হতে টেনেও ধরে রাখ যায় না। তবে যারা দেশে বসে খেলাটা দেখছিলেন তারা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না আবাহনী যে গোল করতে পারবে এবং ম্যাচ জিতবে। শুধু আফসোস করছিল হাপিত্যেশ করছিল একটা গোল কি হবে না ? একটা গোল করে ম্যাচ জিতলেই আর কোনো পানে চেয়ে থাকতে হবে না। সবার প্রার্থনা কবুল হয়েছে। সৌভাগ্যের বারতা নিয়ে এসেছেন সেই আফগান ফুটবলার মাসি সাইঘানি। জীবনের কর্নারের বলটা হাইতিয়ান বেলফোর্ট ব্যাকহেড করেন। মাসি সাইঘানি বাতাসে ভাসানো বলে মাথা লাগিয়ে গোল করেন ১-০। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই আফগান ফুটবলারের গোলে কাঠমান্ডুতে এএফসি কাপের প্রথম খেলায় জয় পেয়েছিল আবাহনী। কাল সেই আফগান ফুটবলারের গোলের ওপর ভর করেই আবাহনী এএফসি কাপে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।