যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩৪

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পলাতক সেনা কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথাটা বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ও এ বি এম এইচ নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফেরানোর ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য ঠাণ্ডা মাথায় বঙ্গবন্ধুকে তার নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই খুনিরা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পরবর্তীতে তাদের কয়েকজনকে বিচারের আওতায় এনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এখনও পাঁচজন বাকি আছে। তারা হলেন: আব্দুর রশীদ, শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এ বি এম এইচ নূর চৌধুরী।

পিটিআইকে দেয়া এ সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রধান চক্রান্তকারী মেজর শরীফুল হক ডালিমের অবস্থান এখনও জানা যায়নি। তবে আমরা জানি, কর্নেল রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। আর হত্যাকাণ্ডের আরেক চক্রান্তকারী নূর চৌধুরী রয়েছেন কানাডায়। খুনি রাশেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।’

বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মরণে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ। আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা নিরলসভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি।’ দুবছর আগে সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন ও বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি আবদুল মাজেদকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ পলাতক খুনির অবস্থানের তথ্য দিতে পারলে সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির খবর আমরা জানি। একজন আমেরিকায় এবং আরেকজন কানাডায়। অন্যদের সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।
যারা এদের তথ্য দেবে সরকার তাদের পুরস্কৃত করবে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি