এশিয়া কাপের দলে নেই মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার কেন নেই, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে চায়ের আড্ডা- সবখানে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। আসলেই কি তাই? যদিও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন মনে করেন, সময় থাকতেই সরে যাওয়া উচিত ক্রিকেটারদের। কিন্তু বর্তমান সময়ের ক্রিকেটাররা সেটি করছেন না। এর কারণ হিসেবে অবসর নেওয়ার সাহস না থাকাকে সামনে এনেছেন সুজন।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উঠেছিল।
অবসর নিতে গেলে সাহস প্রয়োজন কিনা এমন প্রশ্নে সুজন বলেছেন, ‘(অবসর নেওয়ার সাহস) আমার তো ছিল। আমি তো অবসর নিয়েছি। বুঝতে পেরেছি এখন আমার সময় শেষ। আমি যদি না ছাড়ি, নতুনরা কীভাবে আসবে। এটা ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- কোন সময় বিদায় বলার সঠিক সময়। এটা খুব কঠিন। আমিও ওই মুহূর্তটা পার করেছি। আমার যেটা ভালোবাসার, সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম।’
তবে এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যে অবসর নেওয়ার প্রবণতা খুব কম। ক্রিকেটাররা কেন খেলা ছাড়তে চান না, সেটা সুজনের কাছেও একটা প্রশ্নের মতো, ‘আমরা তো আর মাহমুদউল্লাহদের মতো এত পেশাদার ছিলাম না। এখনকার মতো এত টাকা ক্রিকেট খেলে পেতাম না। খুব অল্প টাকায় খেলেছি। তখন ক্রিকেট আমাদের ভালোবাসা ছিল। সেটা ছাড়তে পেরেছি। জানি না, এই প্রজন্মের ছেলেরা কেন ছাড়তে চায় না, ছাড়ার সাহসটা তাদের আসে না।’
সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘তবে একটা সময় আপনাকে ছাড়তে হবে। আকরাম ভাই ছেড়েছেন, নান্নু ভাই বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন, তিনিও ছেড়েছেন। হাবিবুল বাশার, একটা সময় তাকে মিস্টার ফিফটি বলা হতো, বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছে, অনেক রান করেছে, সেও ছেড়েছে। স্টুয়ার্ট ব্রড কি এখনও খেলতে পারতো না? তো সে ছাড়লো কেন? আমার কথা এটাই। আপনাকে জানতে হবে, কখন থামতে হবে।’
কেউ যদি থামতে না চান, তাহলে বাদ পড়ার প্রস্তুতিতে থাকতে হবে বলে মনে করেন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘যদি মনে করে, আমার আরও খেলা উচিত। ২-৩ বছর খেলতে পারবো। ঠিক আছে, কোনও অসুবিধা নেই। তবে আপনি তখন এটা বলতে পারবেন না যে, আমাকে বাদ দিতে পারবেন না। ফর্ম না থাকলে বাদ আপনি পড়তেই পারেন।’
