ন্যাটোর সদস্যপদ চাইলে রাশিয়ার কাছে ভূখন্ড ছাড়তে হবে ইউক্রেনকে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ১৮:৪৭

ইউক্রেন যদি ন্যাটো সদস্যপদ এবং যুদ্ধ থামাতে চায় তবে রাশিয়াকে তাদের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা স্টিয়ান জেনসেন। তার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কিয়েভ।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গের চিফ অব স্টাফ স্টিয়ান জেনসেন মঙ্গলবার নরওয়েতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, যে কোনো শান্তি চুক্তি ইউক্রেনকে মেনে নিতে হবে। জোটের সদস্যরা কীভাবে ১৮ মাসের যুদ্ধ থামানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের যুদ্ধোত্তর অবস্থা সম্পর্কে কূটনৈতিক বৃত্তে আলোচনা অব্যাহত ছিল। এর ফাঁকে জেনসেন তার শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি মনে করি, ইউক্রেনের জন্য সমাধান হতে পারে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া এবং বিনিময়ে ন্যাটো সদস্যপদ লাভ করা।’

এদিকে ২০১৪ সালে রাশিয়ার কাছে হারানো ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এর মধ্যে আবার নতুন করে নিজেদের ভূখণ্ড ছাড়তে বলায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কিয়েভ। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ড ছাড়বে না বলেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

তবে জেনসেন সতর্কতার সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কেবল একটি ধারণা প্রচার করছেন এবং এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইউক্রেনকে নিতে হবে যে তারা কখন এবং কোন শর্তে আলোচনা করতে চায়।’

ইউক্রেনের সম্মতি ছাড়া কোনো ধরনের শান্তি চুক্তিতে ন্যাটো যাবে না, এমন অবস্থানই বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন জেসন।

কিয়েভ ন্যাটোর এমন ধারণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, জমির বিনিময়ে ন্যাটো যেই চুক্তিই করুক না কেনো তা হবে রাশিয়ার আগ্রাসনকে পুরস্কৃত করা। 

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সিনিয়র উপদেষ্টা মিইখাইলো পোদলিয়াক বলেছেন, ‘ন্যাটোর ছায়ায় বাণিজ্য চুক্তি? এটা হাস্যকর। এর অর্থ হল ইচ্ছাকৃতভাবে গণতন্ত্রের পরাজয় বেছে নেওয়া, বৈশ্বিক অপরাধীকে উত্সাহিত করা, রাশিয়ার শাসনকে রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক আইনকে ধ্বংস করা এবং যুদ্ধকে অন্য প্রজন্মের কাছে প্রেরণ করা।’

পোদলিয়াক বলেছিলেন, যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষতি না করতে পারলে তা পশ্চিমের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি করবে। পুতিন যদি শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন না হয়, রাশিয়ার রাজনৈতিক শাসন পরিবর্তন না হয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি না হয়, তবে যুদ্ধ অবশ্যই রাশিয়ার ক্ষুধা আরও বাড়িয়ে দিবে।’

ন্যাটো মঙ্গলবার রাতে একটি স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলেছে, ‘যতদিন প্রয়োজন আমরা ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখব এবং আমরা একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের অবস্থান পরিষ্কার এবং পরিবর্তিত হয়নি।’

ইত্তেফাক/এসএটি/এবি