এখনো সময় আছে, বিএনপি- জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আসুন

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২০

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপির চরিত্র এখনো পরিবর্তন হয়নি। এ কারণে তারা চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-স্বজনদের মনোনয়ন দিয়েছে। কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী ও আ স ম আবদুর রবদের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এখনো সময় আছে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আসুন। নইলে জনগণ আপনাদের চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

গতকাল শনিবার বিকালে শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিশাল মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পয়লা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা মিছিল সহকারে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে যান। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার শপথ গ্রহণ করেন তারা। ‘রাজাকারমুক্ত সংসদ চাই’, ‘তরুণের প্রথম ভোট, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হোক’ এমন স্লোগানও ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে।

সমাবেশে কামাল হোসেনসহ অন্যদের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, কী কারণে, কী প্রয়োজনে স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলেন, নিজেরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাই আপনাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সঠিক পথে ফিরে আসার এখনো সময় আছে। একটা এমপি হওয়ার জন্য আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করবেন না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না। কেউই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। আগামী নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত চক্রকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করবে দেশের জনগণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশ এগিয়ে যাবেই। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবে। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য ভোট কেন্দ্রে পাহারায় থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা।

ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি :মেনন

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিজয়ের মাসে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-স্বজনদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়ার অর্থ হলো, ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সংসদকে রাজাকারমুক্ত রাখতে সকলকে

ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে :নৌমন্ত্রী

সভাপতির বক্তৃতায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, জাতীয় সংসদকে রাজাকারমুক্ত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। অথচ বিএনপি রাজাকারদের সন্তান-স্বজনদের এবার মনোনয়ন দিয়েছে। শাজাহান খান বলেন, ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যেন আমাদের স্মরণ করতে পারে, এ জন্য ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের জন্য আমরা বারবার বলে আসছি।

অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে :দিলীপ বড়ুয়া

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। এবার অস্তিত্বের লড়াইয়ের নির্বাচন। পেছনে থাকার সুযোগ নেই। সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দুই

শতাধিক আসনে বিজয়ী হবে

এ দিকে গতকাল বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সরকারের জাতীয় এইডস/এসডিটি কর্মসূচি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগণের ভোটে  নির্বাচিত হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট  দু’শতাধিক আসনে বিজয়ী হবে। ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ৩০ আসন পাবে’ মর্মে  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আসলে এগুলো হুমকি-ধামকি। এ সব কথা বলে জনগণের মন জয় করা যাবে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মতো উন্নয়নমূলক কাজ করেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশ থেকে এইচআইভি/এইডস নির্মূলের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, বাংলাদেশ তা অবশ্যই অর্জন করতে পারবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য ও বিশ্বস্বাস্থ্য) মোঃ হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমবিডিসি) অধ্যাপক ডা. মোঃ শামিউল ইসলাম প্রমুখ। দেশের এইচআইভি/এইডসের সর্বশেষ পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মোঃ শামিউল ইসলাম। তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৮৬৯ জন নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। আর এ সময়ে মারা গেছে ১৪৮ জন।  এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ হাজার ২২ জন। অনুষ্ঠানের আগে জাতীয় সংসদের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও এনজিও কর্মীরা অংশ নেন।