অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাবেন রকিবুল হাসান

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ২০:০২

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি রকিবুল হাসান। দেশের পক্ষে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ক্রিকেট ব্যাটে জয়বাংলা লিখে খেলতে নেমে সেদিন যে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন, তার মতো আর কয়জন আছেন এমন খেলোয়াড়। স্বাধীনতা পদক পাওয়া এই মানুষটি এখনো দেশের ক্রিকেটে কোনো অন্যায় দেখলে তার প্রতিবাদ করেন। তার মুখ বন্ধ রাখা কঠিন। কেউ না থাকলে তিনি একাই দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহস রাখেন।

গেল ১৩ আগস্ট থেকে মিরপুরে চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনুশীলনে সংবাদমাধ্যম প্রবেশ করতে পারছে না। চলছে ক্লোজড ডোর অনুশীলন। খেলার মাঠের যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্রতিপক্ষ যেন রণকৌশল না জানতে পারে এবং নিজেদের ত্রুটিগুলো সমাধানের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বোর্ড। মিরপুরে নিশ্ছিদ্র অনুশীলন। অথচ সেখানে অনায়াসে সবকিছু দুই চোখ মেলে দেখেছেন কোচ হাথুরুসিংহের বড় ছেলে চাইক হাথুরুসিংহে। একমাত্র মানুষ যিনি কোনো দায়িত্বে নেই, দেশের ক্রিকেটের কেউ নন তবুও অনুশীলন দেখছেন, মিটিংয়েও ঢুকে পড়ছেন। তার জন্য আসন আছে। কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের মিটিং হয় সেখানেও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল কোচ হাথুরুসিংহের ছেলে চাইকের। বাংলাদেশের অনুশীলন জার্সি গায়ে মাঠেও নেমেছিলেন কোচের ছেলে। দেখে মনে হচ্ছিল, কোচের ছেলেও অনুশীলন করবেন বা অনুশীলন করাবেন। দূর থেকে দেখে মনে হবে দলেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন কোচ হাথুরুসিংহের ছেলে চাইক হাথুরুসিংহে।

এটা কী করে সম্ভব। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান এসব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। আর সেসব কথা সংবাদমাধ্যম হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে ক্রিকেটপাড়া। মুহূর্তেই সমালোচিত হয়েছে কোচ, কোচিং স্টাফ, বিসিবি, স্বপক্ষে সমর্থন পেয়েছেন রকিবুল। বিসিবি ডেকে কথা বলেছে রকিবুল হাসানের সঙ্গে। গত সোমবার বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী কথা বলেছেন রকিবুল হাসানের সঙ্গে। কী কথা হয়েছে বিসিবির সঙ্গে—এ প্রসঙ্গে গতকাল রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাব। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে পারব না। তুমি (হাথুরুসিংহে) সাংবাদিকদের অনুশীলন ঢুকতে দেবা না। আর তোমার পোলায় ঢুকবে। আমাকে বলা হয়েছে হাথুরুর ছেলে ইন্টার্নশিপ করতে এসেছে।’

রকিবুল হাসান আরও বলেন, ‘একটা দলের শুধু কোচিংই হয় না। টিম নিয়ে ডিসকাশন হয়। রণকৌশল থাকে। আরও কত বিষয় আছে এখানে। সামনে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। আর এই সময় একজন বাইরে থেকে এসে দলের অনুশীলনে থাকছে। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে থাকছে তার ছেলে। এই ছেলেটা সারাক্ষণ মোবাইল টিপছে। কে কী করছে, কী উদ্দেশ্যে করছে এটা বুঝা মুশকিল। ভালোমন্দের সব বিচার সব সময় তাত্ক্ষণিকভাবে করা যায় না। যখন খারাপ কিছু প্রকাশ হয় তখনই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এটা আমার দেশ। আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের ভালো আমাকেই ভাবতে হবে। প্রত্যেকটা নাগরিকের কর্তব্য রয়েছে।’ এসময় রকিবুল হাসান মনে করিয়ে দিলেন, ‘আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন বিভাগ রয়েছে। কোনো বিপদ হবে না কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারে ?

রকিবুল হাসান লেখালেখিও করেছেন। ১৯৯৪-৯৭ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, সাংবাদিকদের নেতা ছিলেন তিনি। তার হাত ধরে অনেকেই লেখালেখি শুরু করে এখনো সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে বিসিবির প্রধান ম্যাচ রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রকিবুল হাসান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি নিয়ে ভয় পাই না। আমি বলেছি, কেউ যদি আমার সঙ্গে বসতে চাও, তোমরা সবাই বসো। আমিও বসব। দেখি আমি রাইট, নাকি তোমরা রাইট। আর চাকরি খেতে চাও, খাও। পরে সামাল দিও। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবই। এটা আমার দায়িত্ব। যেদিন স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছি, সেদিন থেকেই আমার ওপর এই দায়িত্ব আরও বেশি বেড়েছে।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ