আশানুরূপ ইলিশ নিয়ে ফিরছেন গভীর সমুদ্রের জেলেরা, তবে দাম চড়া

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৩, ১৭:২১

দীর্ঘ অবসর কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে গভীর সমুদ্রের জেলেরা। দীর্ঘদিন পরে ইলিশের দেখা পেয়ে খুশি জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তবে গভীর সমুদ্রের জেলেরা ইলিশের দেখা পেলেও উপকূলবর্তী জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। এদিকে আশানুরূপ ইলিশ নিয়ে ফিরলেও দাম বেশ চড়া। 

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) পটুয়াখালীর বড় দু’টি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর ও আলিপুর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আড়ৎগুলোতে স্থানীয়রা ছাড়াও চট্টগ্রাম, ভোলা, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার থেকে অনেক ট্রলার ইলিশ বোঝাই নিয়ে এখানে বিক্রি করতে এসেছেন। ইলিশের দেখা পাওয়ায় সরগরম পুরো মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। বিভিন্ন সাইজের ইলিশের ক্রয়-বিক্রয় এবং হাকডাকে সরগরম পুরো এলাকা।

দীর্ঘ ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সপ্তাহের মাথায় দুবার বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ইলিশ সংকটে নাকাল ছিল এই এলাকার জেলেরা। তবে এইবার ইলিশের দেখা পেয়ে তারা সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছেন। তারা ইলিশের দেখা পেয়ে যেমন খুশি তেমনই খুশি চড়া দাম পেয়ে। তবে অতিরিক্ত দামে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মাঝে মাঝে লোকসানে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

ছবি: ইত্তেফাক

মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রি করতে আসা এফবি মা বাবা ট্রলারের মাঝি বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘গত দশদিন আগে সাগরে মাছ ধরতে গেছিলাম প্রথম চার দিন জাল টেনে কোনো মাছ পাইনি। পরে অল্প অল্প মাছ পেতে থাকি গতকাল পর্যন্ত মোটামুটি ভালো মাছ পেয়েছি যা গত এক বছরেও পাইনি। আজকে মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে বিক্রি করতে এসেছি যা মাছ পেয়েছি তার দাম ১২ লাখ টাকার ওপরে হবে।’

এই মাঝি আরও বলেন, গত ২ মাসে ৩ বার সাগরে গিয়ে অনেক টাকা লোকসানে পড়েছি। এরমধ্যে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কয়েকবার তীরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। গত ৭দিন আগে ভোলা থেকে মাছ শিকারে নেমে আজকে মাছ বিক্রি করতে এখানে এসেছি। আবার এখান থেকে ১৫ দিনের বাজার নিয়ে সাগরে যাবো। আর মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবো এভাবে যদি মাছ আবার পাই তাহলে ঋণ পরিশোধ করে সংসারে খরচ করতে পারবো।

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মনি ফিসের পরিচালক আব্দুল জলিল ঘরামি বলেন, ‘গভীর সমুদ্রের জেলেরা ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে ঘাটে আসছে এবং ভালো দামও পাচ্ছে। আজকের ছোট ইলিশ ২১ হাজার টাকা, ৬০০-৭০০ গ্রামের ২৮ হাজার, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ৩৬ হাজার এবং ১ কেজির ওপরের ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দামে জেলেরা খুশি থাকলেও পাইকারি ক্রেতারা প্রায়ই লোকসান গুনছেন।

ছবি: ইত্তেফাক

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গত কয়েকদিন যাবত গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারকারী ট্রলারগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে ফিরছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলবর্তী জেলেরা। এর প্রধান কারণ হলো আন্দারমানিক ও রামনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে যে কারণে ইলিশ তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ৬৫ দিনের অবরোধের সুফল পাচ্ছেন জেলেরা তাই উপকূলের জেলেদের জন্য পরামর্শ থাকবে তারা যেন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের সরঞ্জামাদি তৈরি করে।

ইত্তেফাক/এএএম