সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম স্মরণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
মুক্তিযুদ্ধে সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমামের অবদান অনন্য। আমাদের সমাজে নারীরা সবসময় অবহেলিত। তাদের মাঝ থেকে এই দুই নারী যেভাবে নিজেদের ছাড়িয়ে পুরো জাতিকে অন্যায়ের প্রতিবাদী হতে অনুপ্রাণিত করেছেন- তা তাদের অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
জননী সাহসিকা সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আর শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ দুই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন লোকশিল্প বিশারদ শামসুজ্জামান খান। সূচনা বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য-সচিব রবিউল হুসাইন। সুফিয়া কামালের কবিতা আবৃত্তি করেন মাহমুদা আখতার। অনুষ্ঠানে গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা জাহানারা ইমামের লেখা থেকে পাঠ করেন।
শামসুজ্জামান খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমামের অবদান অনন্য। মুক্তিযুদ্ধ শুধু পুরুষরা করেনি, নারীরাও সমানভাবে শামিল ছিলেন। তারা যে কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তার প্রকাশ ফুটে ওঠে এই দুই নারী ব্যক্তিত্বের মাঝ দিয়ে। সুফিয়া কামাল খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। কিন্তু তিনি খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন প্রতিবাদী। তার মত প্রতিবাদী মানুষরা ছিলেন বলেই আমাদের মুক্তি সংগ্রাম সফলতার পথ খুঁজে পেয়েছে।
রবিউল হুসাইন বলেন, সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম দুই ব্যক্তিত্বময়ী নারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শিখিয়েছেন, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণাদায়ী দুই মহীয়সী নারী তারা।
ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস স্মরণ
বাংলা একাডেমি গতকাল বুধবার বিকেলে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে লেখক ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বক্তব্য রাখেন হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, যারা প্রথম ও শেষ বিবেচনায় মানুষকে মানুষ বিবেচনা করেন রণজিত্ কুমার বিশ্বাস তাঁদের জন্য লিখেছেন।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমি নিজে ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাসের ক্রিকেটবিষয়ক লেখার ভক্ত ছিলাম। তিনি কথার মধ্য দিয়ে খেলা দৃষ্টিগ্রাহ্য করে তুলতেন। তিনি রঙ্গ ও ব্যঙ্গ রচনার মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ড. রণজিত্ বিশ্বাস সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতিকে সরল গদ্যে উপস্থাপন করেছেন তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের কথা।
