ক্রিকেটাঙ্গনের সব খানে এখন শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরই চর্চা। সেই মার্চ মাসে ইংল্যান্ড সিরিজের পর থেকেই মাঠের বাইরে টাইগার এই অলরাউন্ডার। সবশেষ এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণাও তাকে বাইরে রেখেই করা হয়। আর যেহেতু এশিয়া কাপে নেই তাই বলা যায় আসন্ন বিশ্বকাপেও থাকছেন না তিনি। মূলত এই দল ঘোষণার পরই শুরু হয় আলোচনা। তবে হঠাৎ দেখা দিয়েছে মাহমুদউল্লাকে নিয়ে কিছুটা আশার আলো। শোনা যাচ্ছে তিনি টাইগারদের বিশ্বকাপ বিবেচনায় রয়েছেন এখনো। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটুও এ বিষয়ে শুনিয়েছেন আশার বাণী।
গতকাল শুক্রবার মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন বিশ্বকাপ দলের ব্যাকআপ ক্রিকেটার হিসেবে যারা থাকবেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ ইনজুরিতে পড়লে ডাক পেতে পারেন মাহমুদউল্লাহরা। টিটু বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন ইতিমধ্যে যে রিয়াদের ব্যাপারটা আমাদের প্রধান নির্বাচক বলেছেন। ফলে আমরা ক্রিকেট বোর্ড আসলে যেভাবে কাজ সব সময় করে এসেছে ক্রিকেটার তৈরি করা থেকে খেলানো। একদম জিরো লেভেল গ্রাউন্ড থেকে টপ লেভেল পর্যন্ত যেভাবে প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে ক্রিকেট। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমস্ত কিছু নির্ধারণ করা হয়। যেটি হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্ষেত্রে সেটা আসলে যেভাবে আলোচনায় আসছে, সেটা আসলে এভাবে আলোচনায় আসার মতো মনে হয় না। যার শুরু আছে, তার একটা সময় শেষ আছে। তো প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই একসময় জাতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত হয়, এক সময় বাদ পড়ে। ফলে এটা একটা অভিয়াস প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়। যদি বিশ্বকাপে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে যেই একটা ব্যাক আপ প্লেয়ার ইনজুরড কেউ হয় তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য যদি কোনো ক্রিকেটারকে মনে করে সেখানে রিয়াদকে রাখা দরকার তখন হয়তো রাখবে।’
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ঐ সিরিজের পর স্কোয়াডেও সুযোগ মেলেনি তার। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ফেরার সম্ভাবনাও বেশ কম। তাকে তাই কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দিতে চাইছে বোর্ড, এমন আলোচনা আছে। এ নিয়েও টিটু বলেন ‘যেই নিয়ম ক্রিকেট বোর্ডের আছে সেই নিয়ম অনুযায়ী যাবে (হবে)। কোনো ক্রিকেটারের যদি সেই রকম নিয়ম থাকে যদি এক বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকে তারপর তার চুক্তি ৬ মাস শেষ হলে চুক্তি রিনিউ না করার আমাদের সেই নিয়ম যদি থেকে থাকে তাহলে সেভাবে চলবে। কারণ, আপনাকে আমি এভাবে বলতে চাই, হয়তো আপনি একটা দায়িত্বে আছেন, আপনি যদি এই দায়িত্বে না থাকেন অন্য একজন আসেন তাহলে কতদিন চুক্তি নবায়ন করা হবে? নিয়মের মধ্যে থেকে আসলে সবকিছু যাবে। ক্রিকেট বোর্ডের যেই নিয়ম আছে সেই নিয়মে সবকিছু হবে।’
দলে জায়গা নেওয়া এবং দল থেকে বাদ পরা এক প্রকার নিয়ম উল্লেখ করে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা যদি বলি আমাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদানটা কখনই অস্বীকার করার মতো না এবং কখনো করাও হবে না। কিন্তু একটা ব্যাপার হচ্ছে, যেহেতু একসময় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলে এসেছিলেন একটা সময় নিয়ম অনুযায়ী দল থেকে বাদ পড়বেন। দুঃখজনক হলেও এটা সত্য। এটাই নিয়ম। পৃথিবীর নিয়ম এইভাবেই চলে। সেই নিয়মে তার বাদ পড়া। তো দুঃখ লাগবে, খারাপ লাগবে তার মতো অভিজ্ঞ প্লেয়ার আমাদের এখানে নেই। একটা সময় মাহমুদউল্লাহ ছিলেন না। সেও কারও জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। যারা তখন বাদ পড়েছে তাদের কাছেও খারাপ লেগেছে।’
এদিকে টাইগারদের স্কোয়াডে বাইরে আট জন খেলোয়াড় প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। তাদের মধ্যে রয়েছে মাহমুদউল্লাহও যদি এশিয়া কাপ ও পরবর্তীকালে নিউজিল্যান্ড সিরিজে কারো পরিবর্তন করার প্রয়োজন করে তাহলে এই খেলোয়াড়দের জায়গা দেওয়া হবে স্কোয়াডে।
এ প্রসঙ্গে একটি গণমাধ্যমকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘৮ জন ক্রিকেটারের একটি তালিকা দেওয়া হবে। ওরা ঢাকাতেই অনুশীলন করবে। বলতে পারেন, ওদের নিয়ে আলাদা একটি অনুশীলন শিবিরই হবে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ওদেরও অনুশীলন চলতে থাকবে। কেউ চোটে পড়লে যাতে বিকল্প তৈরি থাকে, সে জন্যই।’
