চট্টগ্রামে মহাজোট ও ২০ দলীয় জোট প্রার্থীদের বিভক্তি ও কোন্দল থেকে উত্তোরণই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার অধিকাংশ এলাকায় প্রতিটি দলের মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তি এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব রয়েছে। মহাজোট ও ২০ দলীয় জোট প্রার্থী কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করলেও স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নামার পূর্বে প্রার্থীদেরকে দলীয় এবং জোটগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬ আসনের বেশ কয়েকটিতে মহাজোট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থিতা ঘোষণা হলেও আগামী ৯ ডিসেম্বরের পূর্ব পর্যন্ত তা পরিষ্কার হওয়া সম্ভব হবে না। আবার কয়েকটি আসনে একক প্রার্থী দেওয়া গেলেও নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দল ও জোটের সকলে ঐক্যভাবে কাজ করবে কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী মনোনয়ন পেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ তা মানছে না। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ওই আসনে বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় আগামী ৯ ডিসেম্বর তাদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার হবে। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। কিন্তু সীতাকুন্ড উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বাকের ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই আসন থেকে বিএনপির তিনজন মনোনয়নপত্র দাখিল করায় কে প্রার্থী হবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক মনোনয়ন পেয়েছেন বলা হলেও ওই আসনে বিএনপির আরো ৩/৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এখনও আশাবাদী। ওই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মনোনয়ন পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে ড. হাছান মাহমুদ মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির অন্ততঃ তিনজন মনোনয়নপত্র দাখিলকারী থাকলেও কেউ তাদের প্রার্থিতার ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নন বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদের একাংশের নির্বাহী সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে আওয়ামী লীগের তিন হেভিওয়েট প্রার্থী চেষ্টা করেও পাননি। ওই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম মোর্শেদ খান। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান এবং বিজিএমইএ নেতা এরশাদ উল্লাহ।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল আলম চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ওই আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তাই এ আসন নিয়ে মহাজোটের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।
