রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানে থাকেন না জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলুসহ চার জনপ্রতিনিধি। এদের মধ্যে লাভলু প্রধান বলে উল্লেখ করেছেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আরও জানায়, এই চার নেতা কোনো নির্বাচনে যাকে সমর্থন করেন তিনি যদি দলীয় মনোনয়ন না পান তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঘা উপজেলা প্রশাসন। তবে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের একজন চেয়ারম্যান হিসাবে জাতীয় শোক দিবসে আমি তাকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার দাওয়াত রক্ষা করেন নি।
এদিকে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং শুরু করছেন বাঘার চার জনপ্রতিনিধি। এদের মধ্যে বড় পদে অবস্থান করছেন লায়েব উদ্দিন লাভলু। তিনি ২০১৯ সালের ১০ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৪ সালে জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয় না পাওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হানের পক্ষে ভোট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি পুঠিয়ার বানেশ্বরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদ। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন। তারা চাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাঘা উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। কিন্ত সেই বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না আওয়ামী লীগ নেতা লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং তার অনুসারীরা।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, এখানে চারজন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যাদের মুখে নৌকা অন্তরে বিষ। এরা আগামী জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছেন। এদের মধ্যে লাভলু প্রধান। এই নেতা এবার জাতীয় শোক দিবসে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেনি।
তিনি আরও বলেন,বাঘায় সাতজন ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছে। এর মধ্যে বাজুবাঘা ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, লাভলু ওই চেয়ারম্যানের পক্ষে গোপনে ভোট করেন। এর ফলে তার নিজের কেন্দ্রে নৌকার ভরাডুবি হয়। আমরা এমনও শুনতে পাচ্ছি, লায়েব উদ্দিন লাভলু উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য দলীয় ফরম উত্তোলন করবেন। তবে তাতে কোনো লাভ হবেনা। কারণ চারঘাট-বাঘার মানুষ বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র পতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ওপর আস্থা রেখে আবারও তাকেই নির্বাচিত করবে।
বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, আমি আমার লোকজন নিয়ে পৃথক শোক র্যালি করে বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে মোনাজাত করেছি। আমার সঙ্গে একজন মেয়র ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
