চট্টগ্রামে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে ধীর গতি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। এতে নদী ভাঙন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকায় হাজারো বসতঘর নদী ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ— ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুষ্ক মৌসুমে কোনো কাজই করেনি। ইতোমধ্যে মেয়াদের অর্ধেক সময় চলে গেলেও প্রকল্পের ১০ শতাংশ কাজও করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কাজ করেও বিল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।
জেলার সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় সাঙ্গু ও ডলু নদীতে অসংখ্য ভাঙন কবলিত এলাকা রয়েছে। নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে শত শত পরিবার মানবেতন জীবন যাবন করছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের পর কাজ শুরু হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গত নভেম্বর মাসে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার। ১২টি প্যাকেজে ভাগ করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাতে কাজ দ্রুত শেষ করা যায়; কিন্তু গত ৮ মাসে কিছু বালুর বস্তা পানিতে ফেলা ছাড়া কোনো কাজই হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ দ্রুত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয় থেকে বার বার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে ২৮ দিনের মধ্যে বন্ধ থাকা কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের মেয়াদ আর ২/৩ দিন বাকি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীন ইত্তেফাককে বলেন, প্রকল্পের কয়েক স্থানের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। নদীতে বন্যা বা পাহাড়ি ঢল নামলেই ব্যাপক ভাঙন দেখা দিবে। পুরো গ্রীষ্মকাল চলে গেলেও প্রকল্পের কাজ হয়নি।’
সরেজমিনে দেখা গেছে— পুরো প্রকল্পের মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর বামন ডেঙ্গা, তুলাতলী, আমিলাইশ ও মইশামুড়া প্যাকেজের ভাঙন প্রতিরোধ কাজে চলছে সীমাহীন ঢিলেমি।
এই চারটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মাঝখানে কিছু জটিলতার কারণে কাজ ধীরগতিতে হয়েছে। বালুর বস্তা ও ব্লক তৈরির পর ডাম্পিং করার আগে কয়েক দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতায় সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। মাঝখানে আর্থিক সংকটও ছিল। এখন আমরা কাজ শুরু করেছি। বর্ষায়ও কাজ বন্ধ থাকবে না। ভাঙন দেখা দিলে জরুরিভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. রুবেল বলেন, ‘আমরা কাজ করে বিল পাচ্ছি না। ইতোমধ্যে ৮ কোটি টাকার কাজ করে মাত্র দেড় কোটি টাকা বিল পেয়েছি। বিল না পেলে কাজ কীভাবে করা যাবে। তারপরও আমরা কাজ বন্ধ রাখিনি। বালুর বস্তা ও ব্লক তৈরির কাজ হচ্ছে।’ আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুইটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। তাদের কাজের পরিধি ১৬০০ মিটার। প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহমেদ জানান, আমাদের ১১টি পয়েন্টে কাজ রয়েছে। কাজ ছোট ছোট এবং জটিল। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ হয়েছে।’
উল্লেখ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পের কার্যক্রমের মান যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির প্রায় ৮০ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রকল্পের বালির বস্তা, ব্লকসহ অন্যান্য উপকরণগুলোর মান ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের পর প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেন।
