ঘুষের চাহিদার অংক কাগজে লিখে দেন ভূমি কর্মকর্তা!

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০১:৩০

শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আব্দুর রউফ চৌধুরী নামে এ কর্মকর্তা তেওতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটানা সাড়ে তিন বছর যাবত কর্মরত। তিনি শুরু থেকেই জমিসংক্রান্ত সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া সিদ্ধান্ত চাপিয়ে অবৈধভাবে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভূমির খাজনা পরিশোধ, নামজারি-জমাভাগ ইত্যাদি কাজের জন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে একেক সময় একেক কথা বলে অযথা হয়রানি ও ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে দিনের পর দিন ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত আব্দুর রউফ প্রতিটি নামজারি প্রস্তাব উপজেলা অফিসে পাঠানোর জন্য ক্ষেত্রভেদে ২ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। জমি কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও দাবিকৃত ঘুষ না দিলে তিনি পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন না। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ উক্ত কর্মকর্তার ঘুষ দাবি ও গ্রহণের বিষয় রেকর্ডকৃত কথা ব্যাপক জানাজানি হয়। তিনি এ ঘটনায় অনেকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। 

উল্লেখ্য, এমন ঘটনার পর তিনি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা না বলে অফিসে এলে ঘুষের পরিমাণ কাগজে লিখে দেন।

১১১ জন ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরিত আবেদনে আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

আব্দুর রউফ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, স্থানীয় লোক জনের লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমান খান জানান, উক্ত আব্দুর রউফের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক অফিসে জমা দেওয়া গণদরখাস্তের কপি পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দাখিল করা হবে।

 

ইত্তেফাক/এমএএম