টেলিকম খাতের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে এর প্রবৃদ্ধিকে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাজেট : টেলিকম খাতের বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)। এতে উপরোক্ত বক্তব্য তুলে ধরে বক্তারা।
টিআরএনবির সভাপতি মুজিব মাসুদের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আনোয়ার খান শিপু। কোষাধ্যক্ষ শামীম জাহাঙ্গীর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। টিআরএনবি’র সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন। আলোচনায় অংশ নেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মেফতাহ উদ্দিন খান, রবি’র সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, মোবাইল ফোন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত, টেলিটকের ডিজিএম সাইফুর রহমান খান, টেলিকম বিশেষজ্ঞ টিআইএম নুরুল কবির, রবি’র চিফ করপোরেট এন্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলমসহ অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সাইফুল ইসলাম বলেন, টেলিটকের মতো প্রতিষ্ঠানকে সরকার বাঁচিয়ে রেখেছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এছাড়া সরকারের কিছু কাজ টেলিটক করে থাকে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও তাকে কর, ভ্যাট দিতে হবে। নতুবা সরকার পরিচালনা করা যাবে না। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যেন টিকে থাকে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
মফতাহ উদ্দিন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করেই কর কিংবা ভ্যাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি এককভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, স্মার্টফোনের সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি দেখা যাচ্ছে। খুব বেশি স্মার্টফোনের দরকার নেই। সব নীতিমালাতে ভালো ফল দেবে তা আশা করতে পারেন না। স্বর্ণের ডিমপাড়া হাঁস মেরে ফেলতে চাই না, যেভাবেই হোক একে বাঁচিয়ে রাখবো।
মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি আমাদের সাথে থাকে তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। টেলিকম খাতে আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ সরকারের খাতে চলে যায়। নীতি-নির্ধারকদের দায়িত্ব আমরা কেন গ্রামীণফোনের মতো মুনাফা করবো না। টেলিটক আইসিইউতে রয়েছে। এটি বাদে বর্তমানে তিনটি কোম্পানি রয়েছে। তারাও যদি টিকে থাকতে না পারে তাহলে তা এই খাতের জন্য নেতিবাচক হবে। ২১ বছর পরেও যখন মুনাফার স্বপ্ন দেখতে পারি না তখন বুঝতে হবে আসলেই পরিস্থিতি খুব খারাপ।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাবো বলে সরকার ঘোষণা দিয়ে এসেছে সেখানেই করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এটা তো জনগণের উপরই পড়ছে। এই খাত থেকে করের বোঝা কমানোর দাবি তার। টিআইএম নুরুল কবির বলেন, টেলিকম খাতে ১০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই। সেই সঙ্গে সিম ট্যাক্স এই খাতের প্রবৃদ্ধিকে থামিয়ে দিচ্ছে।
