উদ্বেগ হলো সেই অনুভূতি যা আপনি কোনো বিষয়ে চিন্তিত বা ভীত হলে অনুভব করেন। সামান্য দুশ্চিন্তা ও ভয় আমাদের নিরাপদ রাখতে এবং বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে কখনও কখনও উদ্বেগের কারণে পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে যে অবস্থায় আছে তার চেয়েও খারাপ মনে হতে পারে। ক্রমাগত দুশ্চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগেরও কারণ হতে পারে।
সাধারণ মানুষ থেকে তারকা— জীবনে কখনও না কখনও উদ্বেগের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কে কী ভাবে সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বা দিতে পেরেছিলেন কি না, সে কথা জনসমক্ষে বলার সাহস অনেকেরই থাকে না। তবে অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সমাজ-মাধ্যমে প্রায়ই ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ সেশনের আয়োজন করেন তারকারা। যেখানে সাধারণ মানুষ তথা অনুরাগীরা সরাসরি প্রশ্ন রাখতে পারেন তাদের পছন্দের তারকাদের কাছে। তেমনই একটি সেশনে এসেছিলেন আলিয়া।
মা হওয়ার পর আলিয়ার প্রথম ছবি ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ মুক্তি পেয়েছে কিছু দিন আগে। বিয়ে, মাতৃত্বের আগে মুক্তি পেয়েছিল ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। ছবি সফল হওয়ার সমস্ত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই ছবি বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। ছবির সাফল্য শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভর করে না। সে কথা জানেন অনেকেই। তবুও দর্শকের চোখে তার অভিনয় কোন উচ্চতায় পৌঁছাবে তা নিয়ে অভিনেতা, অভিনেত্রীদের মনে উদ্বেগ থাকে। আলিয়ারও ব্যতিক্রম নয় উদ্বেগ তারও হয়। তিনি জানান, আমি দেখেছি এই সময়ে একটি পদ্ধতি ভীষণ ভাবে কাজ করে। যখনই জীবনে এই ধরনের উদ্বেগ আসবে তখনই নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন সব ঠিক আছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেকে শান্ত রেখে পরিস্থিতি সামলে নেওয়া ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। কারণ এই উদ্বেগও জীবনের একটি অংশ।
এছাড়া আরও একটি পদ্ধতি বলে দিয়েছেন আলিয়া। তিনি বলেন, যখনই মনের মধ্যে এমন ভয় দেখা দেবে, তখনই নিজের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের ওপর মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অবশ্য তার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। পছন্দের কোনও সুগন্ধির ঘ্রাণ নেওয়া যেতে পারে ও গানও শোনা যেতে পারে। শুধু ওই নির্দিষ্ট সময়টুকু কাটিয়ে দিতে হবে। কারণ সময় সবসময় এক রকম থাকে না।
আলিয়ার 'ফাইভ সেনসেস টেকনিক'
উদ্বেগের সঠিক কারণগুলো চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে। যখন আমরা মানসিক চাপযুক্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তখন আমাদের মস্তিষ্কে সতর্কতার ঘণ্টা বাজতে থাকে, যা আমাদের বলে দেয় যে কিছু একটা ঠিক নেই এবং আমাদের তা মোকাবিলা করতে হবে। কঠিন পরিস্থিতি দূর করার জন্য, আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের আরও সতর্ক করে তোলে। আমাদের অন্য জিনিসগুলো সম্পর্কে চিন্তা করা থেকে বিরত রাখে এবং পালাতে সাহায্য করার জন্য আমাদের পায়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। কোনও বিষয় নিয়ে ভয় দেখা দিলে মনের মধ্যে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কোনো ভাবেই স্থির হতে পারেন না আক্রান্ত ব্যক্তি। আশপাশে ঘটমান কোনো বিষয়েই তার মনোযোগ থাকে না এবং কাজে মন দিতেও অসুবিধা হয়। মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন ভিড় করতে থাকে। কী হল, কী হতে পারে— এই সংক্রান্ত প্রশ্নের ভিড়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
‘ফাইভ সেনসেস টেকনিক’ পদ্ধতি একেবারেই মনস্তত্ত্ব ভিত্তিক। যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। চিকিৎসা পরিভাষায় এই পদ্ধতি ‘৫-৪-৩-২-১’ নামেও পরিচিত। শুধু উদ্বেগ নয়, মনের অনেক জটিল সমস্যাই কাটিয়ে ওঠা যায় এই পদ্ধতিতে।
কীভাবে অভ্যাস করবেন এই পদ্ধতি:
- চোখের সামনে থাকা পাঁচটি জিনিস চিহ্নিত করতে হবে।
- ৪টি জিনিস ছুঁয়ে দেখতে হবে।
- ৩টি আলাদা আলাদা শব্দ চিনতে হবে।
- ২টি আলাদা জিনিসের গন্ধ নিতে হবে।
- নির্দিষ্ট কোনও ১টি খাবারের স্বাদে মনোযোগ দিতে হবে।
