যমুনায় প্রবল স্রোত ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে পলি অপসারণে চরম ব্যর্থতার ফলে আরিচা-কাজিরহাট রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। এতে পার হতে আসা মালবাহী ট্রাকসহ বহু যানবাহন ঘাটে আটকা পড়েছে।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরিচার ৩ ও ২ নম্বর ফেরি ঘাটের পল্টুন সরিয়ে রাখা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খালেদ নেওয়াজ বলেন, আরিচা ঘাট বরাবর ড্রেজিংয়ে ধীর গতি ও পলি অপসারণ করতে না পারায় চ্যানেলযোগে ফেরি চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। বৈরি আবহাওয়া ও যমুনায় প্রবল স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। আরিচা ঘাটের দুটি পন্টুন সরিয়ে রাখা হয়েছে। তবে, সুফিকা কালাম, বেগম রোকেয়া ও কুঞ্জলতা নামে কম ধারণ ক্ষমতায় ফেরি চলাচলের চেষ্টা করা হবে। ড্রেজিং সম্পন্ন হলেই বড় ফেরি চলাচল সম্ভব হবে। একই কারণে ফেরি ঘাটের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত আরিচা লঞ্চ ঘাট ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পন্টুন যোগে যাত্রী উঠানামা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বালু মহাল হিসেবে আরিচা ঘাট সংলগ্ন যমুনা নদী তীরবর্তী ২৮৬৮ একর জায়গা ইজারা নিয়েছেন। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ড্রেজিংকৃত পলি চিহ্নিত জায়গায় ভরাট করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আক্কাস আলী বলেন, এ বছর ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়নি। তবে, জরুরি ভিত্তিতে ঘাট এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। শুষ্ক মওসুমে ১০ ফুট নাব্যতা থাকে এমন লক্ষ্যমাত্রায় ড্রেজিং করা হয়। পলি অপসারণে ঘাট এলাকায় ৫টি ড্রেজার মোতায়েন রয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ড্রেজিংকৃত চ্যানেল পুনরায় ভরাট হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনায় চিহ্নিত ফোরসোর ভূমিতে ড্রেজিংকৃত পলি ফেলা হচ্ছে।
