খুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের উত্থান: তথ্যমন্ত্রী 

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০০:৪৮

খুনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের উত্থান উল্লেখ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহামুদ(এমপি) বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল। আর ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট তার ছেলে তারেক জিয়া গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আইভি রহমান সহ ২৪ জন মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। 

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বাঘার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ আড়ানী মনোমোহিনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাঘা উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে এক বিশাল জাতীয় শোক সভায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ শোক সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার সময় মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর-সহ যে সকল রাষ্ট্র আমাদের পেছনে ছিলো তারা এখন আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর সু-যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একের-পর এক উন্নয়ন করে চলেছেন। এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কুপি,চ্যারাগ বাতি চেনেনা। কারণ দেশে এখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি। ঢাকায় ইতোমধ্যে মেট্রোরেল চালু হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক গুলো মেগা প্রকল্প চলমান। অথচ মির্জা ফখরুল বলেন দেশে উন্নয়ন হয়নি। 

তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহামুদ আরও বলেন, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি বিএনপি নেতাদের মুখে হতাশার সুর। কারণ তারা ভেবে ছিলো তাদের সকল চাওয়া পূর্ণ করে নির্বাচন হবে। তারা বিদেশীদের সাপোর্ট পাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন দেশ তাদের আহবানে সাড়া দেয়নি। কারণ শেখ হাসিনার প্রতি সকল দেশের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছেন, এ দেশে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এবং রাজশাহীর ৬ বাঘা-চারঘাট থেকে নির্বাচিত সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উক্ত শোক সভায় সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমরা আজকে যে স্কুল মাঠে জাতীয় শোকসভা করছি এই স্কুল থেকে পড়া-লেখা করে তৎকালীন সময়ে মন্ত্রিত্ব করেছেন প্রভাষ চন্দ্র লাহেড়ী। এ অঞ্চলের মানুষ ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রিয় মানুষ। আজ সকাল থেকে এখানে বৃষ্টি হচ্ছে। তার পরেও মানুষ যে ভাবে শোক সভায় সাড়া দিয়েছেন তা থেকে আমার মনে হচ্ছে, আমরা ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ন্যায় গণজোয়ারে বাতাসে ভাসছি। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে। যতদিন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়তে না পারবো ততদিন আমরা ক্ষমতায় থাকবো ইনশাল্লাহ। 

এ শোক সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন,  রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ এড: আদিবা আনজুম মিতা ও রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান। 

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন,পবা-মোহন পুরের সাংসদ আয়েন উদ্দিন, সাবেক সাংসদ বেগম আখতার জাহান,  রাজশাহী মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ,আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী, চারঘাট পৌর মেয়র একরামুল হক,বাঘার পাঁচজন ইউপি চেয়ারম্যান, বাঘা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতা, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান রেন্টু  ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা-কর্মী-সহ  সকল সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।

ইত্তেফাক/এএইচপি