বিএনপি ক্রমেই উন্নত বিশ্বে বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে :কাদের

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৪৩

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বে বিএনপি ক্রমেই বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। লবিস্ট নিয়োগ করে লাখ লাখ ডলার খরচ করেও তারা আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না। আসলে অন্যায় আর অসত্যের সঙ্গে কেউ থাকে না। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিদেশিরা আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের হতাশা প্রকাশের পর গতকাল শনিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শুরুতেই তারা নষ্ট করেছে। তবে নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। নির্বাচন নিয়ে সব শঙ্কা কেটে যেতে শুরু করেছে। অনুকূল ও উত্সব মুখর পরিবেশে জনগণের ভোট দেওয়ার পরিবেশ এখন দেশে বিরাজ করছে। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরণের হস্তক্ষেপ হবে না। আগামী নির্বাচনে জগাখিচুড়ি জাতীয় ঐক্যফন্টের বিরুদ্ধে ভোট বিপ্লব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রস্তাব আসার পর বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই বিষয়টা এখন সরকারের এখতিয়ারে নেই। ২৮ দিন বাকি, এই সময় সামনে রেখে আদালতও তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে নয়, দেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কটা একেবারেই নীতি আদর্শের ব্যাপার। আর আমরা জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক্যাল অ্যালায়েন্স করেছি। তাদেরটা একেবারেই আদর্শিক জোট। বিএনপি সভা-সমাবেশ ডাকলে ওটার মূল হয়ে যায় জামায়াত।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা অনেক দেশে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আমরা তো লক্ষ লক্ষ ডলার দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করতে যাইনি? তারা লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করেও মার্কিনিদের সাড়া পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্র কার পক্ষে থাকবে, আর কার পক্ষে থাকবে না এটা ওয়াশিংটনের ব্যাপার। তিনি বলেন, বিএনপি বুঝে গেছে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না। এজন্য তারা বাকযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে তারা নাশকতা ও সহিংসতার পথে যেতে পারে। তবে তারা যদি নাশকতা করে, এবার দেশের জনগণই প্রতিরোধ করবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা আমাদের এখতিয়ার না, আদালতের বিষয়। আমাদের কনফিডেন্স আছে, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। এখন সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা বিএনপির পুরানো অভ্যাস। তাদের অভিযোগ নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। বিএনপি বুঝতে পেরেছে, তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাবে। তাই তাদের নালিশ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হলে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে মনোনয়ন বঞ্চিতরা

সংবাদ সন্মেলনে ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় একটি টিম কাজ করবে। এই টিমে আরো রয়েছেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ। তিনি বলেন, এই টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। তারা নির্বাচন করছেন না। তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি ভারতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি অংশকে হেড কোয়ার্টারে রেখে দেওয়া হয়। এ জন্য আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতাকে রাখা হয়েছে। শক্তিশালী এই টিম কেন্দ্রে থাকবে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজ করবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ওই টিমের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্বাচনের

পরিবেশ নষ্ট হতে পারে

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও অভিনয় শিল্পীরা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে মাঠে নামবেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করার  অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তারা যেভাবে নিজেরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে নির্বাচন থেকে বিরত থাকছেন তাতে ভয় হয়।