চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের পর ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক জাহিদুল খাঁকে (৫৫) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (২৬ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ধর্ষক জাহিদুল খাঁ গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দক্ষিণ নাড়িবাড়ি গ্রামের কালু খাঁর ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট ইত্তেফাকে ‘চতুর্থ শ্রেণির শিশুটি এখন দশ মাসেরঅন্তঃসত্ত্বা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। তার ৩ দিনের মাথায় র্যাবের অভিযানে ওই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানিয়েছে, ঘটনায় প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর র্যাব-৫ মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। র্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারির ফলে মাত্র ৩ দিনের তদন্তে র্যাব-৫ এবং র্যাব-১০ এর যৌথ অভিযানে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হলেও ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জুন মাসে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শিশুটির দাদি বাদী হয়ে জাহিদুল খাঁকে অভিযুক্ত করে ১৮ জুন ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরদিন ১৯ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬৪ ধারায় শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। চলতি সপ্তাহে অন্তঃসত্ত্বা শিশুটি অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেবে।
শিশুর দাদি মামলার বাদী ইত্তেফাককে জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক ছিলেন ধর্ষক জাহিদুল। ওই ধর্ষক দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন তারা। বিচার পাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবার রাতে ধর্ষকে গ্রেপ্তারের খবর জানায় র্যাব। আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। এখন তারা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শিশুর চাচা জানান, শিশুটির বাবা-মা দুজনেই পৃথকভাবে বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। ছোট থেকে শিশুটিকে তারাই লালন পালন করছেন। স্থানীয় একটি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে সে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মোনোয়ারুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক জাহিদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব-৫ এর নাটোর সিপি-দুইয়ের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আশিকুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সংবাদ মাধ্যমের খবর দেখে তারা মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করেন। শুক্রবার রাতে যৌথ অভিযানে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

