ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে

কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, তদন্ত শুরু

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০৮

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তার জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্তকাজ শুরু করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার জানান, গত রোববার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ১ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কিশোরীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারিক হাকিম তসলিমা আক্তারের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে কিশোরী অভিযোগ করেছেন, একজন দর্জি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। তবে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বলতে পারেননি। বর্তমানে কিশোরী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় খুব কম কথা বলছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

এসআই শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখের (৫৪) সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।

এদিকে ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গত সোমবার সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জান্নাতুল সুলতানা। অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল কর্মকর্তা (ডিআরএস) নূপুর পাল।

ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরিদপুর ব্লাস্টের সমন্বয়কারী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, সরকারি শিশু পরিবারে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম