অর্থের বিনিময়ে প্রবাসী, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, বিবাহিত, সন্তানের বাবাদের নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রদল বিষয়ক সম্পাদকের নির্দেশে গত ১১ আগস্ট কমিটি ঘোষণার পর থেকে এই কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করে আসছেন।
বিক্ষুব্ধরা কমিটি বাতিলের দাবিতে শনিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরের দোস্ত বিল্ডিংয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে রীতিমত চাপ দিয়ে কমিটিতে স্বাক্ষর করান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রদল বিষয়ক সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম বকুল। চট্টগ্রাম দক্ষিণের একজন যুগ্ম আহবায়কের লোকজন দিয়ে এই কমিটি করার জন্য বিপুল অংকের টাকার লেনদেন হয়। বিনিময়ে ৪২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে অধিকাংশই বিবাহিত, প্রবাসী, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তারা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. এনামুল হকের লোকজন। এই সংক্রান্ত মোবাইল কথোপকথন ও কিছু ডকুমেন্ট আমাদের কাছে রয়েছে। যা দলের হাইকমান্ডকে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা জিয়াউল হক জোনাইদ সাংবাদিকদের বলেন, কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রদল বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন। বকুল দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. এনামুল হককে খুশি করার জন্য তার লোকজন দিয়ে পকেট কমিটি দিয়েছেন। আমরা দ্রুত কমিটি বাতিল চাই, নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানাই। ছাত্রদলের বঞ্চিত এক নেতা বলেন,আমরা দলের হাইকমান্ডকে সমস্ত ডকুমেন্ট পাঠিয়েছি। তাতে বকুলের কমিটি বাণিজ্যের কিছু প্রমাণ দেয়া হয়েছে।
সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পটিয়ার নেতা এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন,এই কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে আলাপ করে নেবে। বিএনপির কার্যালয়ে তালা দেওয়া লোকজন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী হতে পারে না।
প্রসঙ্গত যে, গত ৭ মে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে এনামুল হক এনামকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছেন। অন্য নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
এদিকে দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা অহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গত ১১ আগস্ট দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৪২ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে যারা আছেন তাদের অনেকেরই ছাত্রত্ব নেই। কমিটি ঘোষণাকালে আমি ঢাকা মহাসমাবেশে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় ছিলাম। বিবাহিত, সন্তানের বাবা, প্রবাসী ও ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামীম ও এনামুল হক এনাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে নিজের একটি বলয় গড়ে তুলছেন। তারা দলকে ধ্বংস করতে এই কাজ করেছেন। আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ১৩ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষিত এই কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও এই কমিটি বাতিল না হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আজ দলের কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, দেড় বছর পর গত ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৪২ সদস্যের এ কমিটিতে এনামুল হক এনামের পটিয়া উপজেলার রবিউল হোসেন রবিকে আহবায়ক ও কর্ণফুলী উপজেলার কামরুদ্দীন সবুজকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
