চট্টগ্রামে অরক্ষিত ময়লার ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেলো আরও এক শিশুর। রোববার (২৭ আগস্ট) নগরীর হালিশহর থানার রঙ্গীপাড়া এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত নামে এক শিশু নালায় পড়ে তলিয়ে যায়। এ নিয়ে চলতি বছর চট্টগ্রামে নালায় পড়ে দুই শিশু ও এক ছাত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হলো।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক এমডি আবদুল মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যায় আগ্রাবাদে কেএম হাশিম টাওয়ার এলাকায় নালার ভেতর তলিয়ে যায় ওই শিশু। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা নালার আবর্জনার ভেতরে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। তবে এখনো নিখোঁজ ওই শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল সদরঘাটের নালাপাড়া এলাকায় তিন বছরের শিশু ওজাইফা মারা যায় নালায় পড়ে। এরপর গত ৭ আগস্ট নীপা পালিত নামে হাটহাজারী কলেজের এক শিক্ষার্থী নালায় পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে সড়কগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। নগরীর অনেক রাস্তার পাশেই অরক্ষিত খাল এবং ড্রেন রয়েছে। বৃষ্টির সময় খাল ও নালার সঙ্গে রাস্তা একাকার হয়ে গিয়ে ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এছাড়া অনেক জায়গায় ফুটপাতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল আছে যেখানে অসাবধনতাবশত পড়ে গিয়ে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
জানা গেছে, গত সাত বছরে অরক্ষিত ড্রেন ও খালে পড়ে চট্টগ্রামে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ চার জন মারা যায়। ঐ বছর ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। ৭ ডিসেম্বর ষোলশহর এলাকায় চশমা খালে পড়ে মারা যায় কামাল উদ্দিন নামে এক শিশু। নিখোঁজের তিন দিন পর তার লাশ উদ্ধার হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ মোড়ে ড্রেনে পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শেহেরিন মাহমুদ সাদিয়া মারা যান। ৩০ জুন ষোলশহরের চশমা খালে পড়ে তিন অটোরিকশা আরোহী নিখোঁজ হন। পরে চালক সুলতান ও যাত্রী খাদিজা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ বছরও এ পর্যন্ত ড্রেনে পড়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীতে মোট ৫৭টি খাল এবং ৭৬৫ কিলোমিটার নালা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ফুটপাত, খাল ও নালার ওপরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মোট ১৯ কিলোমিটার আয়তনজুড়ে পাঁচ হাজার ৫২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। তবে ছোটবড় দুর্ঘটনা সত্ত্বেও এসব ফুটপাত, নালা ও খাল সুরক্ষায় কারোই গরজ নেই।
নগরবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানিতে নালা-খাল এবং সড়ক একাকার হয়ে যায়। কোনটা সড়ক এবং কোনটা খাল-নালা তা আলাদাভাবে বোঝা যায় না। যে কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। নগরীর প্রধান সড়ক সিডিএ অ্যাভিনিউর ষোলশহর থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে বিশাল এলাকাজুড়ে অরক্ষিত খাল রয়েছে। এছাড়া নগরীর মেহেদিবাগ সড়ক, শেখ মুজিব সড়ক সহ অনেক সড়কের পাশেই খোলা নালা রয়েছে যেগুলোতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এ ছাড়া ফুটপাতের খোলা নালায় স্লাব স্থাপন এবং খালের পাশে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ কাজের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৩০ হাজার বর্গফুট নালার ওপর স্ল্যাব বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ খালগুলোর মধ্যে ১৮ হাজার বর্গফুট এলাকায় সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের’ আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

