চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বিতরণে ব্যাপক স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই সদস্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার অনুদান নিজের আত্মীয়স্বজন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং ব্যক্তিগত সহকারীদের মাঝে বণ্টন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি অর্থের এমন একপেশে বণ্টন প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, অনুদান পাওয়া সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তারা প্রত্যেকেই একে অপরের পূর্বপরিচিত এবং সংসদ সদস্যের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন। একই গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে তালিকায় থাকা বুলু আকতার, হাসনা খাতুন, হোসনেরা বেগম, মুছাৎ হোসনেরা বেগম, রাজিয়া আকতার, হানিফাতুল মোজাহেবা, আজিজুল হক ও মরিয়ম বেগমের নামে এই অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়েছে।
আত্মীয় ও একই গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কর্মচারীদের নামও রয়েছে সরকারি সুবিধাভোগীর তালিকায়। চট্টগ্রামের চাকতাই এলাকায় অবস্থিত এমপি এনামুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আলম ট্রেডিং’-এর কর্মচারী জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ শাকেল, মো. ওমর ফারুক এবং পিকলু চৌধুরীকে ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই তালিকা থেকে বাদ যাননি সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর এবং টি-বয় তানজিমুল হক আহাদও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রকৃত দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে চরম স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। একই গ্রাম, নিজ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডির ভেতরে সরকারি টাকা বিলিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সরকারি তহবিলের অর্থ বিতরণে এমন অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যম থেকে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কেউই কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সরকারি অনুদান নিয়ে এমন স্বজনপ্রীতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে রাজনৈতিক মহল থেকে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। সরকারি অর্থের এমন যথেচ্ছ ব্যবহারের বিষয়টি এরই মধ্যে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে।’

