বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধরছি, বললেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩, ১৮:১২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ আফ্রিকায় তার সাম্প্রতিক সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রীকে আমি ধরছি। তিনি বলেন, কে বলেছে সিন্ডিকেটে হাত দেওয়া যাবে না? তখন সাংবাদিক বলেন দুজন মন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, ওখানে হাত দিলে বিপদ আছে। 

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে গণভবনে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবনে সাংবাদিদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

ব্রিকস বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ব্রিকসের সদস্য পদ পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের কোনো চিন্তা ছিল না। তিনি বলেন, এ কারণে সদস্য হওয়ার চেষ্টাও করিনি। চাইলে পাব না, সে অবস্থাটা আর নেই। কিন্তু প্রত্যেক কাজের একটা পদ্ধতি আছে। একটা নিয়ম আছে। আমরা সেটা মেনেই চলি।

তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হলো, তিনি আমাকে বললেন যে ব্রিকস সম্মেলন করব। সে সময় তিনি জানালেন যে তারা কিছু সদস্য বাড়াবেন। আমাদের মতামত জানতে চাইলেন।’

গণভবনে সাংবাদিদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

‌‘আমি বললাম এটা খুবই ভালো হবে। ব্রিকস যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকেই এই পাঁচ দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে আমার ভালো যোগাযোগ ছিল এবং আছে। আমরা যখন শুনলাম ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হচ্ছে, আমাদের আগ্রহ সেটার দিকে বেশি ছিল। সেখানে আমরা যুক্ত হতে চেয়েছিলাম। এটা যখন থেকে তৈরি হয়, তখন থেকে আমাদের এটার প্রতি আগ্রহ ছিল,’ বলেন তিনি।

ড. ইউনূসের বিষয়ে তিনি বলেন, ভদ্রলোকের যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকতো আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাহলে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না। আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। এছাড়া আমাদের সব কিছু আইন অনুযায়ী চলে। কেউ  যদি ট্যাক্স না দেয়। আর যদি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। আর লেবার কোর্টে মামলা হয়, আমাদের কী সেই হাত আছে মামলা বন্ধ করে দেব?

গণভবনে সাংবাদিদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মামলাটি চলমান (সাব জুডিস)। আমাদের দেশে আমরা চলমান মামলা নিয়ে আলোচনাও করি না। কারণ এটা সাব জুডিস। যেখানে যেটি নিজের দেশে সাব জুডিস হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে বাইরের থেকে বিবৃতে এনে মামলা প্রত্যাহার করতে বলা হয়। আমি কে মামলা প্রত্যাহার করার? আমার কী অধিকার আছে? আমার সেই ক্ষমতা আছে? জুডিশিয়াল তো স্বাধীন। আমরা তো হস্তক্ষেপ করতে পারি না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বিবৃতি দিয়ে তার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) বিচার স্থগিত করতে বলেছেন তাদের বলছি বিবৃতি না দিয়ে আইনজীবী পাঠাক, এক্সপার্টরা দেখুক অনেক কিছু পাবেন। আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সব কিছুই আইন মতো চলে। 

গণভবনে সাংবাদিদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দুর্নীতি খুঁজে বেড়াচ্ছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান করতে বলেছেন, কিন্তু দুর্নীতিবাজ পছন্দের লোক হলে আবার এগুলো নিয়ে কথা আসছে। কেন? আইন তো তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

তিনি বলেন, বিবৃতি না দিয়ে তাদের ক্লায়েন্টের জন্য অভিজ্ঞ লোক পাঠাক। তারা কাগপত্র ঘেঁটে দেখুক, এটা আসলে কী? মামলা তো আমরা করিনি। এনবিআর থেকে আয়কর ফাঁকির মামলা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লেবাররা মামলা করেছেন।

গণভবনে সাংবাদিদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

গত রোববার প্রধানমন্ত্রী ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে দেশে ফিরেছেন।

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসার আমন্ত্রণে ২২-২৪ আগস্ট জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।

ইত্তেফাক/পিও