হাইকোর্টের আদেশ চেম্বার আদালতে স্থগিত

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩০

সাজা ও দণ্ড স্থগিত থাকলে দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে-হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল শনিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে ওই স্থগিত আবেদনটির ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আজ রবিবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডিত হলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এটাই সংবিধানের বিধান। সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এই বিধানটি রয়েছে। দেশের যে আদালতই দণ্ড দিক না কেন দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই আদেশ স্থগিত করায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আজ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ যতক্ষণ পর্যন্ত চেম্বার আদালতের আদেশ রদবদল না করেন ততক্ষণ পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশের ওপর দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে ইতোপূর্বে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ আদেশ দিয়েছিল। আপিল বিভাগ ওই আদেশ বহাল রাখে। পরে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ পৃথক আদেশ দেয়। এ কারণে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় যশোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে ৬ বছরের দণ্ড দিয়েছিল ঢাকার একটি বিশেষ আদালত। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ওই দণ্ড স্থগিত চেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোঃ রইসউদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে দেয়। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান এবং সাবিরার পক্ষে আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন।

পরে জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারছে না। বিচার বিভাগ জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। আইনের শাসন থাকবে না। দেশের মানুষ সুবিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। তাই আপনাদেরকে (বিচারপতি) সকল ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে বিচার করার অনুরোধ করছি। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার কোনো আইন দ্বারা খর্ব করা হয়নি। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, নৈতিক স্খলনের কারণে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবে বিচারিক আদালতের দণ্ড আপিল বিভাগে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দণ্ডিত বলার কোনো বিধান নেই।