বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

শুক্রবার খুলবে সুন্দরবনের দ্বার

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩, ১৫:৩৪

দীর্ঘ তিন মাস বন্ধের পরে আগামী শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনের দ্বার খুরে দেওয়া হবে।  সেদিন থেকে পুরোদমে সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হবে। এ লক্ষ্যে জেলে ও  বনজীবীরা নৌকা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য প্রস্ততি সম্পূর্ণ করেছেন।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞায় বেকার জেলেদের খাদ্য সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে জেলেদের তালিকা পাঠানো হলেও এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 

বনবিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনে মৎস্য ও বণ্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সুন্দরবনের নদী খালে মাছ ধরা ও পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বনবিভাগ।

এদিকে, সুন্দরবনে মাছধরা নিষেধাজ্ঞার সময় সীমা আগামীতে এক মাস কমিয়ে দুই মাস করার জন্য বনবিভাগের প্রতি দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)এর সেক্রেটারি নাজমুল আযম ডেভিড বলেন, সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সুন্দরবনের করমজলে পর্যটকের আসা যাওয়া ঠিকই ছিল। নিষেধাজ্ঞায় সুন্দরবনের তেমন কোনো লাভ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তিন মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় তাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ধার দেনা ও ব্যাংকের ঋণ করে বেকার হয়ে পড়া দেড় সহস্রাধিক গরীব পর্যটন শ্রমিক পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হয়েছে জানিয়ে  তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনের দ্বার খুলে দেওয়া হলেও তাতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের তেমন একটি লাভ হবে না। কারণ এখন পর্যটনের অফসিজন। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটনের মৌসুম। 

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসান বলেন, দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে জেলেদের মাছধরা ও পর্যটকের যাতায়াতের জন্য ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস (অনুমতিপত্র) দেওয়া শুরু হবে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও বনজীবীরা সুন্দরবনে যেতে পারবেন। তিন মাসের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় বেকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ জেলের একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে ডিএফও জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/আরএজে