কেনার আগে লেবেল দেখা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩, ১৮:২০

‘ন্যাচরাল ফ্লেভার’, ‘লো ক্যালরি’, ‘হেলথ ফুড’ এমন সব শব্দের মায়াজালে আমরা হর-হামেশাই ভুলি। কিন্তু সুদৃশ্য প্যাকেট কিংবা বোতলের গায়ে লেখা ক্ষুদে হরফের লাইনগুলোর প্রকৃত অর্থ কতটুকু বুঝি আমরা?

ছোট, শিশুটি ফ্রিজ খাবার টেবিল সর্বত্র খুঁজে বেড়ায় তার প্রিয় খাবার চাউমিন। চাউমিন কোথায়? পছন্দের খাবারে জিভের তোয়াজ হলেও পুষ্টির ঘাটতির কথা ভেবে মা তাড়াতাড়ি এগিয়ে দেন ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’। আজকের লাইফস্টাইলে, নামি এনার্জি ড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপনের এই ছবিটি ধরা পড়ে। গ্লোবালাইজেশনের আগ্রাসী আড়ম্বরে বদলেছে খাওয়া-দাওয়ার ধরন, বাজার করার পদ্ধতি। আমরা হয়ে উঠেছি অনেক বেশি স্বাস্থ্য-সচেতন। বাজার ঘুরে কেনাকাটা করার সময় ফ্যাট, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেটের হিসেব-নিকেশ করতে করতে আমরা খানিকটা বিভ্রান্তও বটে। কোনটাতে বেশি ক্যালোরি? ফ্রুট জুস কতটা খাঁটি? ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া কর্নফ্লেকস নাকি ব্রাউন ব্রেড? এসব প্রশ্নের সমাধান তখনই সম্ভব যদি যে জিনিসটি কিনছি তার গায়ে আঁটা লেবেলের লেখার সঠিক মানে আমরা বুঝতে পারি। কার কী খাওয়া উচিত, তা কিন্তু লেবেল পাঠের মূল বিষয় বা উদ্দেশ্য নয়। কারণ, ফ্যাট, সুগার, প্রোটিন, লবণ সবকিছু পরিমিত পরিমাণে সকলেরই প্রয়োজন। তাই আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে যখনই কিছু কিনবেন, আপনার সঠিক নির্বাচনের মূল হাতিয়ার হবে ‘লেবেল লিটারেসি’। অর্থাত্ লেবেলে যা লেখা আছে তার সঠিক ব্যাখ্যা করতে শেখা।

নিউট্রিশনাল লেবেলে কী 

যেকোনো প্রোডাক্টের ঠিকুজিকুষ্ঠি হলো নিউট্রিশনাল লেবেল।

প্রাথমিক তথ্য

  • বেশি থেকে কম ক্রমানুসারে উপাদানের পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে।
  • রেকমেন্ডেড ডায়েটারি অ্যালাউন্সের শতকরা হিসেব।
  • প্রতিদিন কতটা খাওয়া উচিত।
  • ক্যালোরি কাউন্ট।
  • নির্দিষ্ট প্যাকেট বা পাত্রে মোট কতটা খাবার রয়েছে।
  • নিউট্রিশনাল দাবি, যেমন—লো কোলস্টেরল, ‘লো ক্যালোরি’, হাই ফাইবার ইত্যাদি।

ফুড ডেটিং সিস্টেম

  • ইউজ বাই ডেট
  • এক্সপায়ারি ডেট
  • ফ্রেশনেস ডেট

কীভাবে পড়বেন

  • সম্পূর্ণ লেবেলটিতে নজর দিন।
  • সার্ভিং সাইজের পরিমাণের দিকে সবার আগে নজর দিন। কারণ, ক্যালোরি, ভিটামিন ইত্যাদি বাকি সব তথ্য নির্ভর করবে এই পরিমাণের ওপর।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরির পরিমাণ ঠিক করুন।

লেবেলে ব্যবহূত কিছু শব্দ

  • কোলস্টেরল ফ্রি।
  • লো কোলস্টেরল।
  • নো কোলেস্টেরল।
  • মেড উইথ ভেজিটেবল অয়েল।
  • ১০০% ভেজিটেবল অয়েল।

অ্যাডিটিভ :কৃত্রিম রং, ফ্লেভার, প্রেজার্ভেটিভ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সংক্রান্ত তথ্য।

এনরিচড :এক বা একাধিক নিউট্রিয়েন্ট-সমৃদ্ধ।

ফার্টিফায়েড :প্রসেসিংয়ের সময় এক বা একাধিক নিউট্রিয়েন্ট যোগ করা হয়।

হেলথ ফুড

ন্যাচারাল ফুড :রিফাইড বা প্রসেসড নয়।

পুষ্টিগুণের শতকরা হিসাব

লেবেলের গায়ে লেখা ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি নানা উপাদানের যে উল্লেখ থাকে তার একটা হিসাবে জেনে রাখা দরকার। সরকারি মতানুসারে, একজন স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক ২০০০ ক্যালরি চাহিদার হিসাবে ধরে নিয়ে উপাদানের শতাংশ হিসাবে দেওয়া হয়। যেমন—কোনো একটি খাবারের ভিটামিন ডি ২৫% থাকলে ধরে নিতে হবে, যার ২০০০ ক্যালোরি দৈনিক প্রয়োজন তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এবং প্রতিবারের খাবারে এটি প্রযোজ্য। তবে টিনএজার বা যারা খেলাধুলায় আছেন যাদের বেশি ক্যালরির প্রয়োজন সেই অনুযায়ী হিসেব করতে হবে। একবারের বদলে পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।

ফ্যাট

খাবারে কতটা ফ্যাট থাকবে সেই পরিমাণটাই লেবেলে উল্লেখ করা থাকে। অতিরিক্ত ফ্যাট যেমন শরীরের জন্য ভালো নয়। ফ্যাট একেবারে বাদ দেওয়াও ঠিক নয়। ফ্যাটের পরিমাণ ‘গ্রাম’ এককে দেওয়া হয়। প্রতি ১০০ ক্যালরিযুক্ত খাবারে তিন গ্রামের কম ফ্যাট থাকলে তা গাইডলাইনসম্মত। ভেজিটেবল অয়েল, বাদাম, মাছ, এসবের ফ্যাট শরীরের জন্য খুবই দরকারি।

সোডিয়াম

লবণের অংশ। লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ থেকে সল্টের পরিমাণ বুঝতে চাইলে সোডিয়ামের পরিমাণকে ২.৫ দিয়ে গুণ করুন। প্রসেসড, প্যাকেজড এবং টিনড খাবারে টাটকা খাবারের থেকে বেশি লবণ থাকে, যেহেতু লবণে প্রিজার্ভেশনের গুণ আছে। বডি ফ্লুইড ব্যালেন্স বজায় রাখতে সোডিয়াম খুবই জরুরি। অতিরিক্ত সোডিয়াম ব্লাডপ্রেসার বাড়ায়।

খাবারে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান

কৃত্রিম রং :শিশুদের হাইপার অ্যাক্টিভিটি বাড়ায়। চোখের সমস্যা হয়, ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে।

কৃত্রিম মিষ্টি :নানা ধরনের সমস্যার তৈরি করে।

ক্যাফেন :ডিপ্রেশন, ইনসোমনিয়া ও অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

জেনাটিন :ফ্রি গ্লুট্যামিক অ্যাসিড থাকায় স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। ব্রেন ড্যামেজের সম্ভাবনা থাকে।

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন