দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মানুষ তার পোশাক থেকে গৃহকোণ, সবকিছুই সুন্দর দেখতে চায়। তাই মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়ে রাখার চেষ্টার শেষ নেই। এ ক্ষেত্রে মানুষ সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে রাখতে চায় নিজের ঘরকে। গৃহসজ্জার কথা এলেই প্রথমে চিন্তা করে কীভাবে বাসাবাড়ি পরিপূর্ণ উজ্জ্বলতায় আলোকিত করে রাখা যায়। আগে বিশেষ কোনো উপলক্ষে সাধারণত বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হতো। রংবেরঙের আলোকসজ্জা নিয়ে লিখেছেন ফারজানা ইয়াসমিন।
যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক লক্ষণীয় পরিবর্তন আসছে আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে। যে যার সাধ্যমতো ব্যবহার করছেন ঘর আলোকিত করার মতো আধুনিক ও রংবেরঙের বৈদ্যুতিক আলোক সামগ্রী। ঘরের দেয়ালের রঙের ওপর নির্ভর করে আলোকসজ্জার ধরন। ডাইনিং স্পেস ও সিলিংয়ের আয়তন আর রঙের সঙ্গে মিল করে আলোকসজ্জার ধরন হতে হবে অবশ্যই সৌন্দর্যপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ঘরের বিভিন্ন স্থানের দেয়াল, সিলিং, দরজা ও পর্দার রঙের সঙ্গে আলোর সমন্বয় থাকা বাঞ্ছনীয়। ঘরের দেয়ালের রঙের ওপর নির্ভর করে দেয়ালে লাগানো ভারী অথবা হালকা ডিজাইনের ওয়াল ব্রাকেট লাইট। ঘরের ডাইনিং স্পেসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যায় বিভিন্ন রকম নজরকাড়া ডাইনিং ঝাড়। ড্রইং রুম হওয়া উচিত পুরোপুরি ঝকমকে এবং একটু বেশি চোখ ধাঁধানো। এখানে লাগানো যায় শ্যান্ডেলিয়ার লাইট, লিপ লাইট, পাওয়ার থিম লাইটসহ নানা রকমের হাই ভোল্টেজ এনার্জি লাইট।
বাড়ির প্রবেশপথে কম এবং হালকা রঙের আলোর ব্যবহার বেশ দেখা যায়। তবে খেয়াল রাখুন চলাচলে যেন অসুবিধা না হয়। অনেকে প্যাসেজের দুই পাশের দেয়ালে বিভিন্ন চিত্রকর্মও ঝুলিয়ে রাখেন। এ চিত্রকর্মগুলোকে স্পট লাইট দিয়ে হাইলাইট করতে পারেন।
বসার ঘরে আলোর সজ্জায় রীতিমতো নিরীক্ষা চালানো হয়। নানা রকম ল্যাম্পশেড, ঝাড়বাতির ব্যবহার ঘরের ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়ে দেবে অনেকখানি। তবে আসবাবের সঙ্গে আলোর ব্যবহারে সামঞ্জস্য থাকাটা জরুরি। বসার ঘরে পর্যাপ্ত আলো পেতে প্রেনেন্ড লাইট, সেন্ডেলিয়ার লাইট ব্যবহার করুন। এগুলো ক্রিস্টাল অথবা মেটাল দুই ধরনের হতে পারে। দেয়ালের রং আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। বসার ঘরে দেয়ালে হলুদ রং ব্যবহার করা যেতে পারে। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিল রেখে কিংবা বিপরীত রঙের বাহারি নকশার আলোকবাতির ব্যবহার ঘরকে সুন্দর করবে। ঘরের এক কোণে ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। কর্নার কেবিনেট কিংবা শোকেসগুলোতেও ব্যবহার করুন কম উজ্জ্বলতার ছোট আকারের বিভিন্ন লাইট। এ ছাড়া ফলস সিলিং থাকলে সেখানেও স্নিগ্ধ আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে বসার ঘরের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে।
দাম
ওয়াল ব্রাকেট লাইট ৫ থেকে ৮ ধরনের হয়ে থাকে, যার দাম সর্বনিম্ন ৩৩০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে। ডাইনিং ঝাড় ১০-১২ ধরনের। দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিলিং ঝাড় ১৫ থেকে ২০ ধরনের, যার দাম ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বল ঝাড়, বাটি ঝাড়, লিপ ঝাড়ের দাম ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। শ্যান্ডেলিয়ার স্পটলাইট ও হ্যাংগিং লাইটের দাম ২ হাজার ৫০০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব আলোকসজ্জার বাতি পাওয়া যাবে রাজধানীর বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে। নবাবপুর রোডে রয়েছে অনেক দোকান, যাতে শুধু ঘর আলোকিত করার জন্য আছে অনেক রকম লাইটের সমাহার। ঢাকার পল্টন এলাকার প্রায় সব ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে পাওয়া যাবে নানা রং ও বাহারি ডিজাইনের বাতি।
